কথিত রয়েছে, নিজেদের উপর হওয়া অত্যাচারের কথা জানিয়ে একবার মহাদেবকে নালিশ করতে গিয়েছিল গাভীরা। সেইদিনই নাকি মহাদেব তাদের আশ্বাস দিয়েছিলেন যে বছরে একবার তিনি মর্ত্যে আসবেন। সেখানে গরু-মহিষরা কেমন রয়েছে, তা দেখে যাবেন তিনি। সেই বিশ্বাস থেকেই বিশ্ব সংসারে পালিত হয় বিশেষ পরব।
মহাদেবের মর্ত্যে আসার এই পরবের নাম বাঁধনা পরব। ধামসা-মাদল বাজাতে বাজাতে এই বছরও ধূমধাম করে এই অনুষ্ঠান পালিত হল জঙ্গলমহলে। গরুকে আনন্দ দিতেই এই বাঁধনা উৎসব পালিত করেন আদিবাসী সম্প্রদায়ের মানুষ।
জানা যায়, মানুষ যখন গরুর উপর অত্যাচার করত, সেই সময় তারা অসহায় হয়ে মহাদেবের শরণাপন্ন হয়। সেই সময় তাদের মহাদেব আস্থা দেন যে মর্ত্যে গরু-মহিষদের কীভাবে প্রতিপালন করা হচ্ছে, তা দেখার জন্য তিনি প্রতি বছর একবার মর্ত্যে আসবেন।
আর সেই বিশ্বাস থেকেই আদিবাসী মানুষরা বিশ্বাস করেন যে কালীপুজোর রাত্রিবেলা মর্ত্যে ভক্তের বাড়িতে আসেন খোদ মহাদেব। সেই কারণে এদিন তারা সকলে পুজোর আগে মাটির প্রদীপ দিয়ে ঘর সাজান। আর পুরুষরা ঢোল, মাদল বাজিয়ে গরু-মহিষদের জাগিয়ে রাখে।
আসলে আমন ধান বাড়িতে তোলার আগে গরুকে কৃতজ্ঞতা জানানোর রীতিই হল বাঁধনা। এই পরব হল ভারতের ঝাড়খণ্ড এবং পশ্চিমবঙ্গের পুরুলিয়া, ঝাড়গ্রাম, বাঁকুড়া, পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার কুড়মি, গোয়ালা, রাজোয়ার, সাঁওতাল, নাপিত, কুইরি, কুমহার, ভূমিজ, লোধা, মুন্ডা নানান জাতির কৃষিভিত্তিক উৎসব। প্রত্যেক বছর কার্তিক মাসের অমাবস্যার রাতে এই পরব অনুষ্ঠিত হয়। মূলত কালীপুজোর পরদিন বাঁধনা পরব পালিত হয়ে থাকে। এই উৎসবে যে গান গাওয়া হয়,তাকে অহিরা গান বলা হয়।





