একুশের বিধানসভা নির্বাচন হোক বা পঞ্চায়েত নির্বাচন, এসবের আগেই টিকিট না পেয়ে শাসকদলের অনেক নেতাই দল ছেড়ে নির্দলের হয়ে ভোটে লড়েছিলেন। সেই সময় তৃণমূলের তরফে সাফ জানানো হয়েছিল যে নির্দলদের আর দলে ফেরানো হবে না। কিন্তু সেসব এখন অতীত। এর আগেও নির্দল নেতারা ঘর ওয়াপসি করেছেন তৃণমূলে। আর এখনও করছেন।
তবে এবার নির্দল নেতা তৃণমূলে ফিরতে যাওয়ার সময় দেখা গেল এক অন্য দৃশ্যই। এক কর্মী সভা থেকে তৃণমূলে যোগ দেওয়ার কথা ছিল দুই নির্দল কাউন্সিলর ও এক বহিষ্কৃত নেতার। কিন্তু যোগদান অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়েও ঠিক যোগদানের আগের মুহূর্তে নির্দল কাউন্সিলর জানালেন তিনি তৃণমূলে ফিরছেন না।
কী ঘটেছিল ঘটনাটি?
ঘটনাটি ঘটেছে দক্ষিণ দমদমে। সূত্রের খবর, দক্ষিণ দমদমের দুই নির্দল কাউন্সিলর ও এক বহিষ্কৃত নেতার যোগ দেওয়ার কথা ছিল তৃণমূলে। সেই কারণে গতকাল, মঙ্গলবার দমদম রবীন্দ্র ভবনে এক কর্মী সম্মেলনের আয়োজন করেছিল দক্ষিণ দমদম টাউন তৃণমূল। কর্মী সম্মেলন শেষে নাম ঘোষণা করা হয় নেতাদের দলে যোগ দেওয়ার জন্য। তখনই ঘটে এক নাটকীয় ঘটনা।
এদিন এই যোগদান অনুষ্ঠানের মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন সৌগত রায় ও ব্রাত্য বসুও। তাদের উপস্থিতিতেই দমদমের ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের নির্দল কাউন্সিলর দেবাশীস বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, তিনি দলে যোগ দেবেন না। এরপরই কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। দেবাশীস জানান, তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে কৃতজ্ঞ। সর্বাত্মকভাবেই তিনি তৃণমূলের সঙ্গে রয়েছেন। কিন্তু দলে যোগ দেবেন না।
কেন হঠাৎ এমন বললেন নির্দল নেতা?
দেবাশীস বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের ৯৬ শতাংশ মানুষ তিনি নির্দল থাকাকালীনই তাঁকে বেছে নিয়েছেন। সেই কারণে তাদের মতামত নিয়েই তিনি দলে যোগদানের সিদ্ধান্ত নেবেন। তৃণমূলে যোগ দিতে কিছু সময় লাগবে তাঁর, এমনটাই জানান তিনি। মন্ত্রীও যদিও তাঁর এই সিদ্ধান্ত মেনে নেন।
এদিন দেবাশীস বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “আমার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি শ্রদ্ধা রয়েছে। কিন্তু এরপরও দু’বছর বিনা কারণে দু’একজন মানুষের কথা শুনে দল আমায় টিকিট দেয়নি। আমি নির্দল থেকে দাঁড়িয়েছি। আমি জিতেছি। এলাকার মানুষ নির্দলে ভোট দিয়ে জিতিয়েছে। এখন দল আমায় জয়েন করাতে চাইছে ঠিকই। আমি শুধু জনগণের কথা ভেবেই যোগ দিইনি”।





