IT Student Rejected Job of One and Half Crore Salary: কেরিয়ার নাকি পরিবার, অনেকেই রয়েছেন যারা এই দুইয়ের মাঝে আটকে পড়েন। একদিকে কেরিয়ারে আরও উঁচুতে যাওয়ার আশা, স্বপ্ন আর অন্যদিকে মা-বাবার প্রতি দায়িত্ব, এই দুটোর মধ্যে কোনটাকে বেছে নেবেন, তা ঠাওর করে উঠতেই পারেন না অনেকেই। অনেকে আবার মোটা বেতনের চাকরির হাতছানিতে উপেক্ষা করতে পারেন না। ফলে মা-বাবাকে ছেঁড়ে চলে যেতেই হয় দূরে। কিন্তু এদের মধ্যে ব্যতিক্রমও রয়েছে ঢের। এই যেমন যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আয়ুষ শর্মা। মা-বাবাকে একলা করবেন না বলে বিদেশের দেড় কোটি টাকার মাইনের চাকরিকে অনায়াসে না করে দিলেন যুবক (IT Student Rejected Job of One and Half Crore Salary)।
বাগুইআটির বাসিন্দা আয়ুষ শর্মা। তাঁর মা গৃহবধূ আর বাবা বিমা সংস্থায় কর্মরত। মধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলে আয়ুষ। পড়াশোনা করেছেন ক্যালকাটা পাবলিক স্কুল থেকে। বরাবরই বেশ মেধাবী তিনি। পরবর্তীতে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন আইটি নিয়ে পড়াশোনার জন্য। জানা গিয়েছে, চলতি বছর মোট ৯১৮ জন পড়ুয়া প্লেসমেন্ট নেবেন বলে ইঞ্জিনিয়ারিং শাখা থেকে আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন। এদের মধ্যে ৮৩০ জনের চাকরি হয়েছে। এদের মধ্যেই রয়েছেন আয়ুষ (IT Student Rejected Job of One and Half Crore Salary)।
জানা গিয়েছে, আমেরিকার এক নামকরা কোম্পানিতে ভারতীয় মুদ্রায় বছরে দেড় কোটি টাকা মাইনের চাকরির অফার পান আয়ুষ। কিন্তু সেই চাকরি নিলেন না তিনি (IT Student Rejected Job of One and Half Crore Salary)। আয়ুষ জানান, “প্রথমে যখন অফারটা নিয়েছিলাম মনে হয়েছিল, এখন যেহেতু বহু আইটি কোম্পানি ওয়ার্ক ফ্রম হোমের সুযোগ দিচ্ছে সেটা এমনই হবে। বেতন প্যাকেজও আকর্ষণীয় ছিল। কিন্তু পরে ওরা বলে ইউএসএ-তে গিয়েই জয়েন করতে হবে”।
কেন চাকরির অফার গ্রহণ করলেন না আয়ুষ (IT Student Rejected Job of One and Half Crore Salary)?
যুবক জানাচ্ছেন, “প্রথম কারণ হলো আমার বাবা-মা। তাঁরা আমাকে এতদিন প্রাণপাত করে বড় করেছেন। টাকার পিছনে ছুটতে গিয়ে ওঁদের একলা করে দিতে চাই না। দেশ ছাড়ার সুযোগ আমার কেরিয়ারে আরও আসবে। কিন্তু এখনই দেশও ছেড়ে যেতে চাই না। এখানে কিছু করতে চাই” (IT Student Rejected Job of One and Half Crore Salary)।
ওয়ার্নার ব্রাদার্সের তরফেও চাকরির অফার রয়েছে আয়ুষের কাছে। সেই চাকরিটা নিয়েছেন তিনি। সেখানে বার্ষিক বেতন ২৪ লক্ষের আশেপাশে। এই কাজের জন্য তাঁকে যেতে হবে বেঙ্গালুরু। কিন্তু তাহলেও তো তিনি পরিবারের থেকে আলাদাই থাকতে হবে। আয়ুষের কথায়, “বিপদে-আপদে অথবা মন খারাপ করলে বেঙ্গালুরু থেকে ফ্লাইটে দু-তিন ঘণ্টার মধ্যে আমি চাইলে কলকাতা ফিরতে পারব। কিন্তু ইউএসএ থেকে ফেরা এত সহজ নয়। তাছাড়া বেঙ্গালুরু দেশের মধ্যেই। দেশের মানুষের করের টাকায় পড়াশোনা করে দেশকে কিছু কন্ট্রিবিউট করতে চাই” (IT Student Rejected Job of One and Half Crore Salary)।
যুবকের এই সিদ্ধান্তে অনেকেই বেশ খুশি হয়ে তাঁকে আরও অনেক বড় হওয়ার আশীর্বাদ করলেও, অনেকেই আবার মনে করছেন, আয়ুষের হয়ত আরও বেশি ‘প্রফেশনাল’ হওয়ার দরকার ছিল (IT Student Rejected Job of One and Half Crore Salary)। কারণ কেরিয়ারে এমন সুযোগ বারবার আসে না। তবে আয়ুষ কতটা সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তা তো ভবিষ্যৎই বলবে!





