‘খুবই দুর্ভাগ্যজনক যে ৭১ দিন পর আমাদের দাবীগুলিই স্পষ্টভাবে জানেন না মাননীয়া’, মমতার সঙ্গে ফোনে কথোপকথনে মনঃক্ষুণ্ণ আন্দোলনরত চিকিৎসকরা

গত ১৫ দিন ধরে নিজেদের ১০ দফা দাবী নিয়ে অনশন চালাচ্ছেন জুনিয়র চিকিৎসকরা। ইতিমধ্যেই কয়েকজন চিকিৎসক অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তবে অনশন থেকে সরে আসেন নি চিকিৎসকরা। বাকিরা ঠিকই চালিয়ে যাচ্ছেন অনশন। তাদের দাবী, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তাদের দাবী নিয়ে কোনও স্পষ্ট ধারণাই নেই।

আজ, শনিবার দুপুরে জুনিয়র চিকিৎসকদের অনশন মঞ্চে হাজির হন মুখ্যসচিব মনোজ পন্থ। সেখানে ফোনে চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ফোনে কথোপকথনের পর চিকিৎসকদের ধারণা, মুখ্যমন্ত্রী হয়ত তাদের দাবীর সম্পর্কে স্পষ্টভাবে কিছু জানেনই না। তাঁর কাছে হয়ত সঠিক খবর পৌঁছচ্ছে না। আর এই ঘটনায় বেশ মনঃক্ষুণ্ণ হয়েছেন তারা।   

এদিন যখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ফোনে জুনিয়র চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলেন, তিনি তাদের কাছে জানতে চান, “তোমাদের কী কী দাবী রয়েছে, আমাকে একবার ভালো করে বলো তো…’। এখানেই জুনিয়র চিকিৎসকদের প্রশ্ন, তারা এতদিন ধরে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন, অথচ তাদের দাবী সম্পর্কে কিছু জানেনই না মুখ্যমন্ত্রী!

এদিন মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে ফোনে কথা বলার পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন জুনিয়র চিকিৎসকরা। অনশনকারী চিকিৎসক রুমেলিকা কুমার বলেন, “খুব দুর্ভাগ্যজনকভাবে ও খুব বেদনাদায়ক ভাবে আমরা যখন মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রীকে জানাচ্ছি যে আমাদের কিছু সুস্পষ্ট দশটি দাবী আছে। আমাদের মনে হল উনি জানেন না দশটা কী দাবী। এখান থেকে প্রশ্ন উঠছে, আমাদের দশ দাবী নিয়ে বারংবার সোচ্চার হয়েছি, তাঁদের মেইল করেছি, একই দাবী করতে করতে গিয়েছি। তারপরও ৭১ দিন পর আমাদের কেন শুনতে হচ্ছে মাননীয়া জানেন না দাবীগুলি কী? তাহলে কি তাঁকে দাবী জানানো হচ্ছে না”?

অনশনরত চিকিৎসকদের কথায়, “আমরা আচমকা এমন পদক্ষেপ নিইনি। আমাদের অনশনে বসতে বাধ্য করা হয়েছে। আমরা একদিকে যেমন অভয়ার ন্যায়বিচার চাই, তেমনই রাজ্যে যেন এমন ঘটনা আর না ঘটে তা নিশ্চিত করতে হবে সরকারকেই”।

আরও পড়ুনঃ মধ্যবিত্তদের জন্য দারুণ সুখবর! স্বাস্থ্য ও জীবন বিমায় উঠে যেতে চলেছে জিএসটি, বড় সিদ্ধান্ত কেন্দ্রের

জুনিয়র চিকিৎসকদের কথায়, তাদের দাবী পূরণ না হলে তারা অনশন ছাড়ছেন না। সোমবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে বৈঠক কোনও ইতিবাচক ইঙ্গিত মিললে তবেই অনশন নিয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবেন বলে জানান তারা। তাদের কথায়, “মুখ্যমন্ত্রী আমাদের অভিভাবক। এর আগে আমাদের যতবার ডাকা হয়েছে আমরা উপস্থিত থেকেছি। সোমবারের বৈঠকেও আমরা উপস্থিত থাকব। আমরা চাইব দ্রুত সমাধান সূত্র বেরিয়ে আসুক। আমরা এতদিন অভুক্ত থেকেছি, আরও কয়েকটা দিন থাকব। কিন্তু আন্দোলনকে কোনওভাবেই স্তব্ধ করে দেওয়া যাবে না”।

RELATED Articles