পোস্টিং দুর্নীতি মামলায় অভিযুক্ত ৩৫০ জন শিক্ষককে জেরা করতে পারবে সিবিআই, নির্দেশ দিলেন বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়

এবার শিক্ষক পোস্টিং দুর্নীতি মামলায় সিবিআইয়ের দায়িত্ব আরও বাড়ল। প্রয়োজনে সিবিআই ৩৫০ জন শিক্ষককে জেরা করতে পারে, এমনই নির্দেশ দিলেন হাইকোর্টের বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। এই ৩৫০ জন শিক্ষকের বিরুদ্ধে দুর্নীতির মাধ্যমে চাকরি পাওয়ার অভিযোগ রয়েছে। আগামী ২৮শে আগস্ট ফের এই মামলার শুনানি রয়েছে। এছাড়াও, এই পোস্টিং দুর্নীতি মামলায় ইডি-কেও যুক্ত করা হয়েছে।

সম্প্রতি এক মামলার শুনানিতে এই পোস্টিং দুর্নীতির প্রসঙ্গ উঠে আসে। প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের প্রাক্তন সভাপতি মানিক ভট্টাচার্যই এই দুর্নীতির পিছনে ছিলেন বলেও অভিযোগ করা হয়। গত ২৫ জুলাই বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়ের এজলাসে এই মামলার শুনানি ছিল।

এই মামলায় বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় নির্দেশ দিয়েছিলেন যাতে সিবিআই জেলে গিয়ে মানিক ভট্টাচার্যকে জেরা করে। এরপর ২৫ ও ২৬ জুলাই সকালে প্রেসিডেন্সি সংশোধনাগারে গিয়ে মানিক ভট্টাচার্যকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন তদন্তকারী সংস্থার আধিকারিকরা। তবে হাইকোর্টের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন মানিক।

পোস্টিং মামলায় মানিক পার্টিই নন, এই যুক্তিতে সুপ্রিম কোর্ট তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের রায়ে স্থগিতাদেশ জারি করে। কিন্তু সিবিআই তদন্তের উপর কোনও স্থগিতাদেশ দেয়নি সুপ্রিম কোর্ট। আজ, শুক্রবার সেই রায়ের বিষয়টি উল্লেখ করে সিবিআইকে তদন্ত চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিলেন বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়।

কী জানালেন এদিন বিচারপতি?

আজ, শুক্রবার এই মামলার শুনানি ছিল। এদিন বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায় জানিয়েছেন, পোস্টিং দুর্নীতি মামলায় ৩৫০ জন শিক্ষককে জেরা করা যেতে পারে। তাদের বিরুদ্ধে নথিও সংগ্রহ করা যেতে পারে। এর জন্য বাংলা ও ইংরেজিতে বিজ্ঞাপন দিতে হবে। সেখানে মামলা ও মামলাকারী আইনজীবীর নম্বর থাকবে। আগামী ৭ দিনের মধ্যে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার নির্দেশ দিয়েছেন বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়। আগামী ২৮শে আগস্ট এই মামলার পরবর্তী শুনানি রয়েছে।

কীভাবে হয়েছিল এই পোস্টিং দুর্নীতি?

প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের তরফে ২০২১ সালের ৬ জুলাই একটা তালিকা বের করে। সেখানে দেখা যায়, শিক্ষকদের নিজেদের জেলায় নিয়োগ করা হয়নি। বাধ্য হয়ে দূরের জেলায় চাকরি গ্রহণ করেন বহু শিক্ষক। ৩০ জুলাই ফের শূন্যপদের একটি তালিকা প্রকাশ করা হয়। তাতে দেখা যায় সবারই নিজের জেলায় শূন্যপদ রয়েছে। মাত্র ২৩ দিনে কী করে শূন্যপদ তৈরি হল, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়। টাকার বিনিময়ে নিজের পছন্দের জেলায় চাকরি দিতেই এই কারচুপি করা হয়েছে বলে অভিযোগ।

RELATED Articles