‘পুলিশ-প্রশাসন কী জানত যে রাতে মহিলাদের ডাকা হচ্ছে, আমি ক্ষুব্ধ’, সন্দেশখালি কাণ্ডে অত্যন্ত বিরক্ত বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়

এর আগে যখন সন্দেশখালিতে ইডির উপর হামলা হয়েছিল, সেই সময় মুখ খুলেছিলেন তিনি। যদিও তা নিয়ে শাসক দলের বেশ কটাক্ষের মুখে পড়তে হয়েছিল তাঁকে। কিন্তু তাঁকে যে দমিয়ে রাখা সম্ভব নয়, তা তিনি বারবার প্রমাণ করেছেন। এবার সন্দেশখালিতে মহিলাদের প্রতিবাদের ঘটনা নিয়েও প্রতিক্রিয়া জানালেন কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়।

সন্দেশখালিতে মহিলাদের উপর নির্যাতনের কথা জানতে পেরে রীতিমতো বিস্মিত হন বিচারপতি। এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমি আমার জ্ঞান হওয়া থেকে এ সব শুনিনি। যা দেখলাম টিভিতে। যে সব কথা ওঁরা বলছেন— বলা হচ্ছে, রাতে ফোন করে ডাকা হত। জোর করে মিটিংয়ে নিয়ে যাওয়া হত। পুলিশ প্রশাসন কী জানত না এভাবে মহিলাদের রাতে ডাকা হচ্ছে। নাকি জেনেও চোখ বুজে ছিল”।

একটু থেমে বিচারপতির সংযোজন, “বিভিন্ন রাজনৈতিক দল জোর করে মিটিং-মিছিলে নিয়ে যায়। সেটা জানা থাকলেও রাত্রিবেলা কাউকে পার্টি অফিসে যেতে বলা হচ্ছে, এটা আমার কাছে পরিচিত ঘটনা নয়। আমি ব্যক্তিগত ভাবে বলতে পারি, আমি অত্যন্ত ক্রুদ্ধ এবং ক্ষুব্ধ। আপাতত আমি মুখ বন্ধ করেই রেখেছি”।

প্রসঙ্গত, সন্দেশখালির ঘটনার সূত্রপাত শেখ শাহজাহানের বাড়িতে ইডির তল্লাশি করতে যাওয়ার দিন থেকে শুরু করে। সেদিন ইডির উপর চলে হামলা। সেই থেকে ফেরার তৃণমূল নেতা শেখ শাহজাহান। এরই মধ্যে গত শনিবার সন্দেশখালির মহিলারা গর্জে ওঠেন শাহজাহান ও তাঁর দুই সাগরেদ উত্তম সর্দার ও শিবু হাজরার বিরুদ্ধে।

মহিলাদের অভিযোগ, তাদের উপর শারীরিক নির্যাতন চালিয়েছে এই তৃণমূল নেতারা। তাদের জোর করে মিটিং-মিছিলে টেনে নিয়ে যাওয়া হত। এমনকি, রাত-বিরেতে তাদের পার্টি অফিসে তুলে নিয়ে যাওয়া হত বলেও অভিযোগ করেছেন মহিলারা। তাদের শ্লী’ল’তা’হা’নি করা হয়েছে, উত্তম-শিবুদের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ করেন তারা। এই ঘটনায় উত্তপ্ত রাজ্য-রাজনীতি।     

RELATED Articles