দালালের মাধ্যমে দেদার চাকরি বিক্রি করেছেন শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতিতে ধৃত রাজ্যের প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় ও প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের প্রাক্তন সভাপতি মানিক ভট্টাচার্য। গতকাল, শুক্রবার ৩৬০০০ চাকরি বাতিলের পর রায়ে এমনটাই লিখলেন হাইকোর্টের বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়।
রায়ে বিচারপতি লেখেন, “২০১৬ সালের প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় পর্ষদের প্রাক্তন সভাপতি-সহ আধিকারিকদের কাজ অনেকটা স্থানীয় ক্লাবের মতো। আর ইডির তদন্তে উঠে এসেছে, যাঁদের টাকা ছিল প্রাথমিক শিক্ষকের চাকরি তাঁদের বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে”।
শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতিতে গতকাল, শুক্রবার ঐতিহাসিক দিয়েছেন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। প্রাথমিকে ৩৬০০০ অপ্রশিক্ষিত শিক্ষকদের চাকরি বাতিল করেছেন তিনি। তাঁর এই রায়ের ফলে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হতে পারে বলে জানান পর্ষদের বর্তমান সভাপতি গৌতম পাল। তিনি এও জানিয়েছেন যে আদালতের এই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে তিনি সর্বোচ্চ আদালতে যাবেন। অন্যদিকে, বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়ের মতে, ২০১৬ সালের প্রাথমিকে যে দুর্নীতি হয়েছে, তা নজিরবিহীন।
বিচারপতির কথায়, অপ্রশিক্ষিত শিক্ষকদের নিয়োগে প্রচুর অনিয়মের ছাপ রয়েছে। ইন্টারভিউ প্রক্রিয়ায় অযোগ্য চাকরিপ্রার্থীদের নম্বর বাড়ানো হয়েছে। উদাহরণ দিয়ে বিচারপতি রায়ে লেখেন, “মাধ্যমিক এবং উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় কম নম্বর পেয়েছেন এমন চাকরিপ্রার্থীদেরও সংশ্লিষ্ট বিভাগে ১০ নম্বরের মধ্যে সাড়ে ৯ দিয়ে দেওয়া হয়েছে। এমনকি, অ্যাপটিটিউড টেস্টও নেওয়া হয়নি”।
বিচারপতির পর্যবেক্ষণ, যাদের উপর চাকরিপ্রার্থীদের অ্যাপ্টিচিউড টেস্ট নেওয়ার ভার দেওয়া হয়, তারা অনেকেই এই টেস্টের বিষয়ে জানতেনই না। যারা বোর্ডে না লিখিত পরীক্ষায় কম নম্বর পেয়েছে, ইন্টারভিউতে তাদেরই বেশি নম্বর দিয়ে চাকরি দেওয়া হয়েছে। বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়ের পর্যবেক্ষণ, এই গোটা দুর্নীতি প্রক্রিয়াটিতে সবথেকে বেশি দায় মানিক ভট্টাচার্যের।
রায়ের শেষের দিকে বিচারপতি লেখেন, “এই পুরো অস্বচ্ছতা এবং দুর্নীতি হয়েছে পর্ষদের প্রাক্তন সভাপতির জন্য। তিনি সব নিয়ম জানতেন। তা সত্ত্বেও সেই সব নিয়মই ভেঙেছেন। তাই রাজ্য সরকার যদি মনে করে, নতুন নিয়োগের পুরো ব্যয়ভার প্রাক্তন সভাপতির কাছ থেকে নিতে পারে”। বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায় এও আশা রাখছেন যে নিয়োগ দুর্নীতিতে ধৃত পার্থ চট্টোপাধ্যায় ও মানিক ভট্টাচার্যকে জেরা করে নিয়োগ দুর্নীতি সংক্রান্ত আরও অনেক তথ্য পাবে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা।





“উত্তম কুমারের ছেলের সঙ্গে দেবলীনার বিয়ে হয়েছে” রাসবিহারীর দলীয় প্রার্থী দেবাশিস কুমারের মেয়েকে নিয়ে, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিভ্রান্তিকর মন্তব্যে শোরগোল!