শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি নিয়ে একাধিক মামলা চলছে কলকাতা হাইকোর্টে। এবার এসএসসি-তে বয়স ভাঁড়িয়ে নিয়োগের অভিযোগ উঠল। নবম-দশম শ্রেণীতে নিয়োগের ক্ষেত্রে ২১ জনের বয়সে কারচুপি করার অভিযোগ উঠছে। শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতির তদন্ত করছে সিবিআই। এবার এই ২১ জনের বয়স ভাঁড়িয়ে এসএসসি-তে নিয়োগের বিষয়টিতেও সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দিলেন কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসু। শুধু তাই-ই নয়, ২০১৬ সালের গোটা প্যানেল বাতিল করে দেওয়ার হুঁশিয়ারিও দিলন তিনি।
কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসুর এজলাসে একটি নতুন মামলা উঠেছিল। মামলাকারীর দাবী, এক্ষেত্রে চাকরিতে নিয়োগের জন্য বয়সসীমা থাকে ৪০ বছর। কিন্তু সেই বয়স পেরিয়ে গেলেও নিয়োগ করার অভিযোগ তুলেছেন মামলাকারী।
মামলাকারীর দাবী, “এসএসসি-র দেওয়া মেধাতালিকা তথ্যেই স্পষ্ট, বয়স পেরোনোর পরেও চাকরি। এই তথ্যই সিবিআই তদন্তের দরকার”। এক্ষেত্রে বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসুর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “এমন লজ্জাজনক দুর্নীতি দেখলে পুরো প্যানেল বাতিল করে দেব”।
প্রসঙ্গত, ২০১৬ সালে নবম-দশম শ্রেণীতে শিক্ষক নিয়োগের জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে এসএসসি। সেই বছরের নভেম্বর মাসে হয় পরীক্ষা। পরবর্তীতে এই নিয়োগের ক্ষেত্রেই দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। এই মামলায় সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দেন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। সমস্ত প্রার্থীদের মেধাতালিকা প্রকাশ করার নির্দেশ দেওয়া হয়।
আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী মেধাতালিকা প্রকাশও করে এসএসসি। সেই মেধাতালিকা প্রকাশ্যে আসতেই প্রকাশ পায় এই চাঞ্চল্যকর তথ্য। এদিন হাইকোর্টের বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসুর এজলাসে নতুন এই মামলাটি উঠলে বিচারপতি সংশ্লিষ্ট ২১ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য নির্দেশ দেন। ফের এই মামলার শুনানি রয়েছে আগামী জানুয়ারি মাসে। আগামী দিনে এই মামলা কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেটাই দেখার।
তবে রাজ্যে এই শিক্ষাক্ষেত্রে নিয়োগের দুর্নীতি মামলায় আদালতের প্যানেল বাতিল করে দেওয়ার অভিযোগ এটা নতুন নয়। এর আগেও বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ সংক্রান্ত একটি মামলায় প্যানেল বাতিলের হুঁশিয়ারি শানিয়েছিলেন।





