‘যে বঙ্গবানরা মমতাকে চটিপিসি বলছে, তারাই আবার একটি মেয়ের ধর্ষণ-খুনের ঘটনার জন্য আন্দোলন করছেন’, আন্দোলনকারীদের কটাক্ষ কবীর সুমনের

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) সম্প্রতি ‘উৎসবে ফিরুন পুজোয় ফিরুন’ মন্তব্যে তৈরি হয়েছে তুমুল বিতর্ক। এই মন্তব্যের জেরে যেন প্রতিবাদের আগুনে আরও ঘি ঢেলে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী নিজেই। এই মন্তব্যের নিন্দা জানিয়েছেন সমাজের সকল স্তরের মানুষরা। চলছে বিস্তর সমালোচনা। এরই মাঝে তৃণমূল ঘনিষ্ঠ এবং প্রাক্তন তৃণমূল সাংসদ কবীর সুমন (Kabir Suman) সমাজ মাধ্যমে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই মন্তব্যের বিরোধিতা জানিয়েছেন।

কবীর সুমন একটি দীর্ঘ ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, “অভয়া বা তিলোত্তমার ধর্ষণ ও খুনের বিচার চেয়ে যে ব্যাপক আন্দোলন চলছে, মাননীয়া মমতা যদি তার খবর সম্যক রেখে থাকেন (যা তিনি রাখেন বা তাঁর রাখা উচিত বলে আমার ধারণা) তাহলে ঐ উক্তিটি করা তাঁর একেবারেই উচিত হয়নি। এই দেশে আর কোন কোন নৃশংস কাণ্ড ঘটছে, তার প্রসঙ্গ না টেনেও বলব আ রজি করের ঘটনায় অনেকেই রুষ্ট, অনেকেই আন্দোলনে নেমেছেন”।

সারা বাংলাজুড়ে প্রত্যেকদিন আন্দোলনের যে চিত্র দেখা যাচ্ছে সেই বিষয়ে কবীর সুমন আরও লিখেছেন, “এই আন্দোলন এখন বিচিত্র রূপ ধারণ করেছে, করে চলেছে। গান লেখা, গান গাওয়া কবিতা লেখ-বলা, শাঁখ বাজানো, রাস্তায় হৈ হৈ করে উদ্দীপক গানের সঙ্গে নৃত্য করা, রাস্তা জুড়ে ছবি আঁকা লেখা ইত্যাদি। সকলেই নিশ্চই মনপ্রাণ দিয়ে করছেন সবকিছু। আন্দোলনমুখী কর্মকাণ্ড কোথাও কোথাও উৎসবের রূপ নিয়ে ফেলছে বললে বাড়িয়ে বলা হবে কি? কেউ কেউ আবার মহামতি লেনিনের উদ্ধৃতি দিচ্ছেন যদিও কলকাতায় যে আন্দোলন আমি দেখছি তাতে নাগরিক উচ্চমধ্যবিত্ত হিন্দুদেরই দেখছি বেশি, আর লেনিন বেশি চিন্তিত ছিলেন শ্রমজীবীদের নিয়ে। কেউ কেউ এই আর জি কর আন্দোলনকে লেনিনিস্ট বিপ্লব পর্যন্ত বলে ফেলেছেন। এরকম অবস্থায় ‘উৎসবে ফিরুন’ বলা খুবই কাঁচা কাজ, হৃদয়হীনতার পরিচয়। আন্দোলনকারীরা স্বাভাবিকভাবে রেগে গিয়েছেন। এমনিতে আমি মাননীয়া মমতার ভোটার ও প্রগ্রেসিভ বিপ্লবী মধ্যনাগরিক বাঙালিদের কাছে এক নিবেদিতপ্রাণ ‘চটিচাটা’। এ হেন আমিও মনে করছি ‘উৎসবে ফিরুন’ কথাটা বলা অন্যায় হয়েছে”।

তবে এর সঙ্গে সঙ্গেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়কে কটু ভাষায় আক্রমণ করার বিরোধিতাও জানিয়েছেন কবীর সুমন। তিনি লিখেছেন, “একই সঙ্গে দেখেছি দেখছি আমায় যারা ঘৃণা করেন সেই বঙ্গবানরা মাননীয়া মমতাকে ‘চটিপিসি’, ‘চটিবুড়ি’ ইত্যাদি নামে ডেকে চলেছেন। এরা নাকি এক মহিলাকে ধর্ষণ ও খুন করা হয়েছে বলে আন্দোলনে নেমেছেন। এরাই আবার প্রায় সত্তর বছর বয়সী এক মহিলাকে এইভাবে অপমান করছেন।”

কবীর সুমন রাম এবং বাম দুই শিবিরকেই বিঁধেছেন তার পোস্টে। সিপিআইএমকে শূন্যে বিলীন হয়ে যাওয়া দল এবং বিজেপিকে আমাশা রোগী বলে তিনি পোস্টে লিখেছেন, “যদিও, যা দেখলাম, তাঁকে ও তাঁর দলকে ভোটে হারিয়ে সরকার গঠন করার ক্ষমতা কারুরই নেই। সিপিআইএম উঠেই গিয়েছে বলা যায়। তাঁরা আছেন ফেসবুকে আর, মনে হচ্ছে অভয়া-আন্দোলনের কোথাও কোথাও। কিন্তু ভোট হলে আবার তারা শূণ্যে বিলীন হবেন বলেই অনেকে মনে করেন। বিজেপি ক্রমশ ক্ষীণ হয়ে যাচ্ছে ক্রনিক আমাশায় ভোগা রুগীর মতো”।

আরও পড়ুনঃ ‘যেতে পারি কিন্তু কথার পিঠে কথা হবে, গোটা আলোচনার লাইভ টেলিকাস্ট করতে হবে…’, বৈঠকের জন্য মুখ্যমন্ত্রীকে শর্ত আন্দোলনকারী চিকিৎসকদের

কবীর সুমন নিজের ফেসবুক পোস্টের শেষে একটি প্রশ্ন করে শেষ করেছেন নিজের বক্তব্য। তিনি লিখেছেন, “অভয়ার জন্য বিচার চেয়ে রাস্তায় নামা এবং আর-একজন মহিলাকে সমানে কুৎসিৎ গালাগাল দিয়ে যাওয়া একই সঙ্গে চালানো যায় কি? ‘উৎসবে ফিরুন’ অন্যায়, হৃদয়হীন উক্তি। আলবৎ। এক বর্ষীয়সী মহিলাকে কদর্য ভাষায় অভিহিত করা, আক্রমণ করা?”

Debdut Bhattacharjee

আরও পড়ুন

RELATED Articles