মর্গে মৃতদেহের সঙ্গে সহবাস! নিছকই নেক্রোফিলিয়া নাকি পর্নোগ্রাফির চক্র? হিসেব নেই শবদেহের, অঙ্গ পাচারও চলত? রহস্যের আঁতুড়ঘর আর জি করের লাশকাটা ঘর!

আর জি কর হাসপাতালের (R G Kar Hospital) সেমিনার রুমেই সেখানকারই কর্মরত তরুণী চিকিৎসককে ধর্ষণ এবং খুনের ঘটনায় উত্তাল হয়ে উঠেছে বাংলা। নিত্যদিনই ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’ ( we want justice) এবং ‘জাস্টিস ফর আর জি কর’ (justice for R G Kar) স্লোগানে মিছিল করে প্রতিবাদ জানাচ্ছে গোটা রাজ্য। এবার এই নৃশংস ঘটনার আঁতুরঘর আর জি কর হাসপাতালকে নিয়ে সামনে আসছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। তবে এবার বিতর্ক তৈরি হয়েছে আর জি কর হাসপাতালের মর্গকে কেন্দ্র করে।

রহস্য দানা বেঁধেছে আরজিকর হাসপাতালে লাশ কাটা ঘরকে ঘিরে। অভিযোগ উঠেছে, সেখানে নাকি কুকীর্তি চলত রাতের পর রাত। এই ঘটনায় ধৃত সিভিক ভলেন্টিয়ারের সেখানে অবাধ যাতায়াত ছিল। শুধু সেই সিভিক ভলেন্টিয়ারই নয় যে সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছিল তাদের বড় বড় মাথারাও নিয়মিত আস্ত লাশ কাটা ঘরে। রাতে হয় না ময়নাতদন্ত এ আমরা সবাই জানি কিন্তু তাহলে রাত্রিবেলা তারা মর্গে কি করত? কেন সারা রাত জ্বলতো মর্গের আলো? সেখানে তাহলে কি হতো উঠছে প্রশ্ন।

বর্তমানে এই ঘটনার তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই সূত্রের দাবী, ধৃত ব্যক্তির মোবাইল ফোন থেকে কিছু কিছু ছবি এবং ভিডিও পাওয়া গেছে যা আর জি কর হাসপাতালের মর্গের ভিতরের। ওই ছবি এবং ভিডিওতে মরদেহের সাথে ওই ধৃতের সহবাসের প্রমাণ মিলেছে। এখানেই দানা বাঁধছে রহস্য। নিছকই কি নেক্রোফিলিয়াতে (একধরনের মানসিক রোগ) আক্রান্ত হয়েই ধৃত এই ছবি ভিডিও গুলো করেছিলেন? নাকি এর নেপথ্যে রয়েছে বড় কোন পর্নোগ্রাফির চক্র?

৯ই আগস্ট ওই সিভিক ভলেন্টিয়ারকে গ্রেফতার করেছিল কলকাতা পুলিশ। কলকাতা পুলিশের সূত্রেই জানানো হয়েছিল যে তৃতীয় ব্যক্তির পর্নোগ্রাফিতে আসক্তি রয়েছে। বর্তমান তদন্তকারী সিবিআই সূত্রে জানা যাচ্ছে, মৃতদেহের সাথে সহবাসের ছবি ভিডিও ফোনে ক্যামেরা বন্দি করে রাখতেন ওই ধৃত সিভিক ভলেন্টিয়ার। তাহলে সেই ছবি ভিডিও তুলে দিত কারা? উঠছে প্রশ্ন। সিন্ডিকেটেরই কিছু সদস্য সেই কাজ করতেন বলেই প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

তদন্তে পর্নোগ্রাফি চক্রের পাশাপাশি বেওয়ারিশ লাশের হিসেবেও গরমিল খুঁজে পেয়েছে তদন্তকারী সংস্থা। সূত্রের খবর অনুযায়ী ২০২১ সাল থেকে প্রত্যেক বছরই ৬০ থেকে ৭০টি লাশের হিসাব পাওয়া যায়নি। কোন কোন কিছুরই ঠিক হিসাব নথিভুক্ত পাওয়া নেই হিসেবের খাতায়। তাহলে কি বেআইনি অঙ্গ ব্যবসায় জড়িত ছিল ওই সিন্ডিকেট? এই নিয়ম উঠছে প্রশ্ন। ‌মর্গের ভেতরকার নকশা, কোল্ড চেম্বার, সিসিটিভি ফুটেজ, রেজিস্টার এবং শেষ কয়েক মাসে সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করছেন বলে জানিয়েছেন তদন্তকারী সংস্থা।

এমন কথাও সামনে উঠে আসছে যে, আর জি কর হাসপাতালের মর্গে যে হেড ডোম ছিলেন তাকে সন্দীপ ঘোষ সরিয়ে দেন অন্য বিভাগে। বদলে তার জায়গায় আনা হয়েছিল উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজের এক ডোমকে। এখানেই উত্তরবঙ্গের লবির সাথে আর জি কর কে জুড়ছেন তদন্তকারী সংস্থা। ওই ডোমের মাধ্যমেই হাসপাতালের মর্কে দুর্নীতি আখড়া তৈরি করে ফেলেছিল সিন্ডিকেটের মাথারা। শোনা যাচ্ছে, শেষ কয়েক মাস ধরে গভীর রাতেও আলো জ্বলতে দেখা যেত মর্গের। প্রাথমিকভাবে অনুমান করা হচ্ছে সেই সময় কোল্ড চেম্বার থেকে বের করা হতো মৃতদেহ। মৃতদেহের সাথে সহবাসের ছবি এবং ভিডিও ক্যামেরা বন্দি করা হতো তখনই।

আরজি কর হাসপাতালের নাম প্রকাশ অনৈচ্ছিক এক ব্যক্তি জানান, “সন্ধ্যা হলেই মর্গে নিয়ে আসা হত মদের বোতল। সেখানে আমাদের মতো ছোটখাটো কর্মীদের কারও কিছু বলার সাহস ছিল না। বললেই হয় বদলি, নয় চাকরি যাওয়ার হুমকি দেওয়া হত”। অভিযোগ, রাত হলেই মর্গে এসে ঢুকতেন সিন্ডিকেটের দাপুটে নেতাদের অনেকেই। এক কর্মীর কথায়, “অন্যায় দেখেও চুপ করে থাকাটাই তো অলিখিত নিয়ম হয়ে গিয়েছিল”।

Debdut Bhattacharjee

আরও পড়ুন

RELATED Articles