এমনিতে তিনি যে কোনও সামাজিক বা রাজনৈতিক বিষয়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে গানকেই হাতিয়ার করেন। তবে তা নিজে লিখে, সুর দিয়ে। তবে এবারের তাঁর প্রতিবাদের মধ্যে ঢুকে পড়লেন স্বয়ং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। রবীন্দ্রনাথের গানের প্যারোডি করেই দলবদলকারী নানান নেতাদের আক্রমণ করলেন শিল্পী ও প্রাক্তন সাংসদ কবীর সুমন।
তবে রবীন্দ্রনাথের গানকে প্যারোডি করার জন্য ক্ষমা চেয়ে নিয়েছেন তিনি। কোনও ক্ষেত্রে প্রতিবাদের জন্য নিজের গানকেই হাতিয়ার করেন তিনি। অন্তত শেষ কিছু বছরের অভিজ্ঞতা তাই-ই বলছে। কিন্তু এই প্রথম তাঁকে প্যারোডি করতে শোনা গেল। যারা দলবদল করছেন, তাদের শ্লেষাত্মক ভঙ্গিতে আক্রমণ শানাতেই এই পথ অবলম্বন করলেন কবীড় সুমন।
ইতিমধ্যেই, তাঁর এই প্যারোডি গান নিয়ে বেশ আলোচনা শুরু হয়ে গিয়েছে। ‘জাগরণে যায় বিভাবরী’ গানের প্যারোডি করে তিনি লিখেছেন, ‘দল ছাড়িলাম চুরি করে/ দল ছাড়িলাম চুরি করে/ আবার লাইব পকেটও ভরি/ হে পকেটও ভরি/ বিজেপি ধরি”।
এর আগেও বিভিন্ন বিষয়ে তিনি সোচ্চার হয়েছেন। অর্থনীতিবিদ নোবেলজয়ী অমর্ত্য সেনকে সমর্থন করে রাস্তায় নামেন তিনি। কলকাতার বাংলা অ্যাকাডেমি চত্বরে প্রতিবাদও জানান। এর আগে নিজে গান লিখে সুর করে, তা আপলোড করতেন নিজের ওয়েবসাইটে। কিন্তু এই গান তিনি আপলোড করেছেন ফেসবুকে।
বিগত কয়েক বছর ধরেই রাজ্য রাজনীতিতে দলবদল বেশ মাথাচাড়া দিয়েছে। একের পর এক নেতা মন্ত্রী এক দল ছেড়ে অন্য দলে যোগ দিচ্ছেন। তবে এর শুরু তৃণমূলকে দিয়েই। বিরোধীদল ভাঙিয়ে তৃণমূল নিজের শক্তি বাড়িয়েছে। একসময় বামফ্রন্ট, কংগ্রেস ও অন্যান্য বিরোধী দল থেকে লোকজন এসে তৃণমূলে যোগ দিয়েছে। এবার তার উল্টো সুর বইছে। তা বুমেরাং হয়েই ফিরেছে তৃণমূলের দিকে। এখন তৃণমূল থেকে কাতারে কাতারে নেতা-মন্ত্রী ও বিধায়ক বিজেপিতে যোগ দিচ্ছে। মুকুল রায়, অর্জুন সিং এর মতো প্রভাবশালী নেতা তো ছিলেনই। সম্প্রতিকালে দল ছেড়ে বিজেপিতে গিয়েছেন শোভন চট্টোপাধ্যায়, শুভেন্দু অধিকারী, সব্যসাচী দত্তের মতো নেতারাও।





