ভিক্টোরিয়ায় জেনেশুনে রাজ্যে ৩০ শতাংশ ভোটারকে খুশি করতে নেতাজিকে অপমান করেছেন মুখ্যমন্ত্রী: কৈলাস বিজয়বর্গীয়

গতকাল ছিল নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর ১২৫ তম জন্ম জয়ন্তী। সেই উপলক্ষে কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়ালে আয়োজন করা হয় অনুষ্ঠানের। উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী, কেন্দ্রীয় সংস্কৃতিমন্ত্রীও। আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেও। কিন্তু নিজের বক্তব্য রাখার জন্য তিনি বলতে উঠতেই বিজেপি সমর্থকদের মুখ থেকে ‘জয় শ্রী রাম’ ধ্বনি ওঠে। সেই স্লোগানে ক্ষুব্ধ মুখ্যমন্ত্রী এরপর মঞ্চেই সরাসরি তোপ দাগেন। তিনি বলেন,”সরকারি অনুষ্ঠানের ডিগনিটি থাকা উচিত। এটা কোনও রাজনৈতিক অনুষ্ঠান নয়। আমাকে আমন্ত্রণ করায় প্রধানমন্ত্রী ও সংস্কৃতিমন্ত্রীর কাছে কৃতজ্ঞ। কিন্তু কাউকে আমন্ত্রণ করে, তারপর অপমান করা উচিত নয়। তাই প্রতিবাদ স্বরূপ আমি কিছু বলছি না।”

মুখ্যমন্ত্রীর এই বক্তব্যের পরপরই বঙ্গ রাজনীতিতে আলোড়ন ওঠে। নিজের সিদ্ধান্তে বাংলায় জনগণের একাংশের ও বাম-কংগ্রেস সহ বিরোধীদলের সমর্থন‌ও পেয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

কিন্তু মুখ্যমন্ত্রীর বিরোধিতা করে নিজেদের সপক্ষে যুক্তি খাঁড়া করতে উঠে পড়ে লেগেছে বিজেপিও। যেমন, রবিবার সকালে এনজেপি স্টেশনে পৌঁছে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন বাংলায় বিজেপির পর্যবেক্ষক কৈলাস বিজয়বর্গীয়। সেখানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্য না রাখা প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নে তাঁর চাঁছাছোলা জবাব, “নেতাজিকে শুধু দেশ নয়, সারা বিশ্ব চেনে। তাঁকে নিয়ে অনুষ্ঠানের অন্য গরিমা ছিল। সেই নেতাজির জন্মজয়ন্তীর অনুষ্ঠান থেকে চলে যাওয়া মানে তাঁকে অপমান করা।”

গতকালকের ঘটনার প্রেক্ষিতে কৈলাস বিজয়বর্গীয় দাবি করেন, “জয় শ্রী রাম হচ্ছে অভিবাদন সূচক শব্দবন্ধ। যখন প্রধানমন্ত্রী এসেছিলেন, তখনও বলা হয়েছিল। প্রহ্লাদ পাটেলকেও বলা হয়েছিল। মমতা ব্যানার্জিকেও তাই বলে হয়েছিল। জয় শ্রী রাম-এ কীসের অপমান? যে উনি বলছেন, ওঁর অপমান হয়েছে! ভারতমাতা কি জয়-এ কীসের অপমান?”

এরপরই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা করে কৈলাস বিজয়বর্গীয় তোপ দাগেন, “এটা উনি জেনেবুঝে ভোটারদের খুশি করতে করেছেন। বাংলায় যে ৩০ শতাংশ ভোটার রয়েছেন, তাঁদের খুশি করতে করেছেন। আমি সবসময়ই বলেছি, এই ৩০ শতাংশের জন্য ৭০ শতাংশ বরাবর উপেক্ষিত থেকেছে। এখন সময় এসেছে এই ৭০ শতাংশের সরকার গঠনের। বিধানসভা নির্বাচনেই মানুষ এর জবাব দেবে।”

RELATED Articles