রাজ্যের একাধিক পুজোকে সেরা ঘোষণা করে দুর্গারত্ন পুরস্কারে ভূষিত করেছেন রাজ্যপাল সি ভি আনন্দ বোস। এই পুরস্কারের তালিকায় ছিল এই বছর নদিয়ার কল্যাণীর আইটিআই মোড়ের লুমিনাস ক্লাবের পুজোর নাম। কিন্তু রাজ্যপালের দেওয়া সেই পুরস্কার নিতে অস্বীকার করলেন এই পুজোর উদ্যোক্তারা। এই পুজোর উদ্যোক্তা তৃণমূল কাউন্সিলর অরূপ মুখোপাধ্যায় এই প্রত্যাখ্যানের কারণও জানান।
এই বছর নদিয়ার কল্যাণীর আইটিআই মোড়ের লুমিনাস ক্লাবের পুজো নজর কাড়ে সকলের। সেখানকার এবারের থিম ছিল ম্যাকাওয়ের গ্র্যান্ড হোটেল ক্যাসিনো লিসবোয়া। রাতের বেলা এই মণ্ডপের লেজার লাইট আরও মোহময়ী করে তোলে এই মণ্ডপকে। রাজ্যের নানান প্রান্ত থেকে মানুষ ভিড় জমায় এই মণ্ডপে। গোটা রাজ্যে সাড়া ফেলে দিয়েছিল এই পুজো।
রাজ্যপাল আগেই ঘোষণা করেছিলেন যে একাধিক সেরা পুজোকে পুরস্কৃত করবেন তিনি। দশমীর দিন সেরা চার পুজোকে বেছে নেয় রাজভবন। এই তালিকার প্রথমেই ছিল টালা প্রত্যয়ের নাম। দ্বিতীয় স্থানে ছিল কল্যাণীর লুমিনাস ক্লাবের নাম। তৃতীয় স্থান পেয়েছে বরানগরের বন্ধুদল স্পোর্টিং ক্লাব ও চতুর্থ স্থানে রয়েছে বরানগরের নেতাজি কলোনি লোল্যান্ড। কিন্তু কল্যাণীর লুমিনাস ক্লাবের তরফে রাজ্যপালের এই স্বীকৃতিকে প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে।
কী জানালেন তৃণমূল কাউন্সিলর?
এই পুরস্কার প্রত্যাখ্যানের বিষয়ে কারণ হিসেবে অরূপ মুখোপাধ্যায় বলেন, “সবিনয়ে আমরা এই পুরস্কার প্রত্যাখ্যান করছি। কারণ আমরা দেখেছি গত কয়েকদিন ধরে বাংলার ১০০ দিনের কাজের টাকা মানুষগুলো পাচ্ছে না। আমরা দেখেছি দিল্লি, কলকাতার রাজভবনে গিয়ে মানুষগুলো টাকার জন্য আন্দোলন করছেন। আমরা ওনার কাছে অনুরোদ করব আমাদের এই টাকা না দিয়ে উনি কেন্দ্রের সঙ্গে কথা বলে ১০০ দিনের কাজের টাকা পাইয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করুক। গরিব মানুষগুলো টাকা পেলেই আমরা মনে করব আমরা পুরস্কার পেলাম”।
কী প্রতিক্রিয়া বিজেপির?
এই ঘটনা প্রসঙ্গে বিজেপির মুখপাত্র শমীক ভট্টাচার্য বলেন, “রাজ্যপাল ওখানে যাওয়ার পর ওনাকে রিসিভ করার লোক পর্যন্ত ছিল না। তাতেই ওনার সবটা বোঝা উচিৎ ছিল। তবে শাসকদলের ভয়ে বা শাসকদলের কিছু এজেন্ট এসব করছে। তৃণমূল মানেই অভদ্রতা, অসৌজন্য, অসহিষ্ণুতা”।





