‘মমতা ব্যানার্জিকে যতদিন না সরাচ্ছি ততদিন মাথার চুল বাড়তে দেব না’, জামিন পেয়েই মাথা কামিয়ে ফেলে শপথ নিলেন কৌস্তভ

প্রায় সাড়ে আট ঘণ্টা হেফাজতে থাকার পর জামিন পেয়েছেন কংগ্রেস নেতা ত্থ আইনজীবী কৌস্তভ বাগচি। ব্যক্তিগত বন্ডে জামিন পেয়েছেন তিনি। আর জামিন পেয়েই রাজ্যের স্বৈরাচারী শাসন নিয়ে সরব হলেন তিনি। কার্যত চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে কৌস্তভ বললেন।, “মমতা ব্যানার্জিকে যতদিন না সরাচ্ছি ততদিন মাথার চুল বাড়তে দেব না। এবার ওঁর (মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়) রাতের ঘুম কেড়ে নেব”।

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে মন্তব্য করার জেরে গ্রেফতার হতে হয় কৌস্তভ বাগচিকে। শনিবার মাঝরাতে তাঁর বাড়িতে হানা দেয় পুলিশ। তাঁর তিনটের সময় হানা দিয়ে চালাতে থাকে তল্লাশি। ৫ ঘণ্টা পর কৌস্তভকে গ্রেফতার করে পুলিশ। কৌস্তভ বলেছিলেন এটা তাঁর ‘নৈতিক’ জয়।

গ্রেফতারির সাড়ে ৮ ঘণ্টা পর এক হাজার টাকার ব্যক্তিগত বন্ডে জামিন পেলেন কৌস্তভ। আদালত থেকে বেরিয়েই রাজ্য সরকারের দিকে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে কৌস্তভ বললেন, “রাজ্যে স্বৈরাচারী শাসন চলছে। এই শাসনকে উৎখাত করব। যতদিন পর্যন্ত না মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে উৎখাত করব, ততদিন আমার চুল বাড়াব না”। এরপরই আদালতের সামনেই মাথা কামান কৌস্তভ।

কৌস্তভকে এদিন আদালতে পেশ করার পরই ব্য়াঙ্কশাল কোর্টে হই হট্টেগোল শুরু হয়ে যায় আইনজীবীদের। কৌস্তভ বাগচির গ্রেফতারির প্রতিবাদে সরব হন আইনজীবীরা। তদন্তকারী অফিসার ও ওসিকে শোকজের দাবীতে শুনানির মাঝেই হট্টগোল শুরু করে দেন প্রায় ১০০ জন আইনজীবী। বিরক্ত হয়ে এজলাস ছেড়ে বেরিয়ে যান বিচারক। পরে ফিরে এসে রায়দান করেন বিচারক।

এদিন এজলাসে কৌস্তভের পক্ষ থেকে আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য বলেন, “এই মামলায় যিনি অভিযুক্ত তিনি আইনজীবী। ইয়ং। এমন নয় যে আইনজীবী ক্রিমিনাল অফেন্স করেন না। কিন্তু এগুলো পুলিশ অ্যাট্রোসিটির স্বীকার। প্রথমে ডিএ প্রতিবাদ করায় একজন গ্রেপতার করা হল। তারপর নওশাদ। এখন এই আইনজীবী”।

অন্যদিকে, কৌস্তভের জামিনের বিরোধিতা করে পাবলিক প্রসিকিউটর বলেন, “এই মামলায় একটা জামিন অযোগ্য ধারা আছে। যেখানে বলা আছে, কেউ যদি কোনও গুজব ছড়ান। এখানে ওয়েবের মাধ্যমে গুজব ছড়নো হয়েছে। এই ঘটনার নিয়ে পাবলিক শান্তিশৃঙ্খলা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়”। দু-পক্ষের দীর্ঘ বাদানুবাদের পর অবশেষে ব্যক্তিগত ১ হাজার টাকা বন্ডে কৌস্তভের জামিন মঞ্জুর করেন বিচারক। আগামী ৫ এপ্রিল আদালতে হাজিরা দিতে হবে কংগ্রেস নেতাকে।

RELATED Articles