সাগরদিঘি নির্বাচনে তৃণমূলের হারের কারণ নিয়ে নানান আলোচনা চলছে রাজনৈতিক মহলে। এবার এই নিয়ে মন্তব্য করলেন ফুরফুরা শরিফের পীরজাদা নওশাদ সিদ্দিকি। তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সতর্কবার্তা দিয়ে তিনি বলেন যে আসন্ন পঞ্চায়ের নির্বাচনে সঠিকভাবে প্রার্থী না বাছাই করলে গোটা বাংলার অবস্থাই সাগরদিঘির মতো হবে।
সাগরদিঘি উপনির্বাচনে বেশ বড় মাপের ব্যবধান রেখেই তৃণমূলকে হারিয়েছেন বাম সমর্থিত কংগ্রেস প্রার্থী বাইরন বিশ্বাস। তৃণমূলের দেবাশিস বন্দ্যোপাধ্যায় জামানত জব্দ হয়েছেন তাঁর কাছে। এই প্রার্থীর কারণেই সাগরদিঘিতে হার হয়েছে তৃণমূলের, এমনটাই দাবী ত্বহা সিদ্দিকির।
তিনি বলেন, “প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে তৃণমূলের আরও সতর্ক হওয়া উচিত। নাহলে গোটা বাংলাই সাগরদিঘির মতো ফলাফলের প্রতিফলন হবে। কেন ৬৫ শতাংশ সংখ্যালঘু এলাকায় কোনও সংখ্যালঘু প্রার্থী নেই? হিন্দু এলাকায় হিন্দু প্রার্থী, মুসলিম এলাকায় কোনও মুসলিমকে প্রার্থী করা উচিত”।
সাগরদিঘিতে প্রার্থী নির্বাচন নিয়েও তৃণমূলের দিকে প্রশ্ন তোলেন ত্বহা সিদ্দিকি। তাঁর কথায়, “প্রার্থী কে ঠিক করেছেন? মমতা নাকি অভিষেক? আমি নিশ্চিত, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সাগরদিঘিতে প্রার্থী নির্বাচন করলে তিনি নিশ্চয়ই সংখ্যালঘু ফ্যাক্টরের কথা মনে রাখতেন”। তৃণমূল সুপ্রিমোকে বার্তা ত্বহা সিদ্দিকি বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যাতে দলের রাশ নিজের হাতেই রাখেন, আলগা যাতে না করেন।
অন্যদিকে, সাগরদিঘির হার নিয়ে ফেসবুকে বিস্ফোরক পোস্ট করেছিলেন হুগলির আরামবাগের সাংসদ অপরূপা পোদ্দার। সাগরদিঘির হারের জন্য দলের একাংশের বিরুদ্ধেই তোপ দেগেছিলেন তিনি। সাংসদের কথায়, “সাগরদিঘিতে দলেরই মীরজাফর কাজ করেছে। দলের কিছু বড় মন্ত্রীর অপকর্মের কারণে আমাদের লাল কার্ড দেখতে হয়েছে এবং মাঠের বাইরে। যারা খারাপ কাজ করেছে, যাদের জন্য দলের ভাবমূর্তি খারাপ হয়েছে, যারা দলে থেকে দলের সঙ্গে বেইমানি করে দলকে ছুরি মেরেছে দল তাদের রেড কার্ড দেখিয়েছে”।
ত্বহা সিদ্দিকির বার্তা প্রসঙ্গে তৃণমূল সাংসদ শান্তনু সেন বলেন, “বিজেপির মতো তৃণমূল ধর্মের ভিত্তিতে রাজনীতি করে না। মানুষে মানুষে ভেদাভেদ করে না। ২০১১ সালের পর থেকে সব ধর্মের সব বর্ণের মানুষের জন্য একাধারে উন্নয়ন করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর সমস্ত জনমুখী প্রকল্প সব মানুষের জন্য। ত্বহা সিদ্দিকি তাঁর উপলব্ধি থেকে কিছু বলে থাকতে পারেন। ওনার বক্তব্য নিয়ে আমি কিছু বলব না”।





