‘সোশ্যাল মিডিয়ায় অসত্য, বিভ্রান্তিকর তত্ত্ব ছড়ানো হচ্ছে’, তদন্ত স্বচ্ছভাবেই চলছে, আর জি কর কাণ্ডে গুজব ছড়ানো থেকে বিরত থাকার আর্জি কলকাতা পুলিশের

আর জি কর হাসপাতালে তরুণী চিকিৎসককে ধর্ষণ করে খুনের ঘটনায় গোটা রাজ্যে উত্তেজনা। বিক্ষোভ জারি জুনিয়র চিকিৎসক ও পড়ুয়া চিকিৎসকদের। চাপের মুখে পড়ে পদত্যাগ করেছেন হাসপাতালের অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষ। এবার এই ঘটনায় সকলের কাছে এক আর্জি জানাল কলকাতা পুলিশ।

আর জি করের ঘটনায় সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজেদের মত প্রকাশ করছেন নেটিজেনরা। নিজের মতো করে নানান ব্যাখ্যা দেওয়া হচ্ছে। এই ঘটনার ক্ষোভ উগড়ে দিচ্ছেন অনেকে। তবে কলকাতা পুলিশের মতে, এমনটা করতে গিয়েই সোশ্যাল মিডিয়ায় নানান অসত্য ঘটনা তুলে ধরা হচ্ছে। অনেক গুজব ছড়াচ্ছে আর জি করের ঘটনা নিয়ে।  

এর আগে পুলিশ কমিশনার বিনীত গোয়েল বলেছিলেন, “আরজিকর নিয়ে নানারকম গুজব ছড়াচ্ছে। বলা হচ্ছে, অনেককে আড়াল করার চেষ্টা হচ্ছে। এও বলা হচ্ছে, ২,৩ জনের সিমেন্স পাওয়া গেছে। আমি সকলকে বলব, কারও কাছে কোনও তথ্য থাকলে বা অভিযোগ থাকলে সরাসরি আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করুন”।

এবার কলকাতা পুলিশের তরফে সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি পোস্ট করে আর্জি জানানো হল কেউ যাতে কোনও গুজবে কান না দেন। ওই পোস্টে বলা হয়েছে, “সোশ্যাল মিডিয়ায়, বিশেষত ফেসবুকে ঘটনা নিয়ে বিভিন্ন অসত্য, অনুমাননির্ভর এবং বিভ্রান্তিকর তত্ত্ব ছড়িয়ে দিচ্ছেন নেটিজেনদের একাংশ। আমাদের আন্তরিক অনুরোধ, না-যাচাই-করা এই ধরণের তত্ত্ব, তথ্য বা গুজবে কান দেবেন না। এতে তদন্তের ক্ষতি হয়, ন্যায়ের প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়, এবং সর্বোপরি শোকগ্রস্ত পরিবারটি আরও বেশি করে যন্ত্রণাদগ্ধ হয়। আবার বলি, সততা, আন্তরিকতা এবং স্বচ্ছতার সঙ্গে তদন্ত চলছে। কাল্পনিক তত্ত্ব এবং গুজব ছড়ালে সেই তদন্তেরই গতি ব্যাহত হয়”।

কলকাতা পুলিশের কথায়, তদন্ত স্বচ্ছভাবেই এগোচ্ছে। একজনকে গ্রেফতারও করা হয়েছে ইতিমধ্যেই। যত দ্রুত সম্ভব ন্যায়বিচার সুনিশ্চিত করার আশ্বাস দিয়েছে পুলিশ। এই পোস্টের মাধ্যমে এও জানানো হয়েছে, তাদের সঙ্গে মৃতার পরিবারের যোগাযোগ রয়েছে। আন্দোলনকারীদের সঙ্গেও তারা যোগাযোগ রাখছেন নিয়মিত।   

এদিকে আন্দোলনকারীরা মনে করছেন, ধৃত সঞ্জয়ের সঙ্গে আরও কেউ কেউ জড়িত থাকতে পারে। তাঁদের কথায়, “আমরা কানাঘুষো শুনছি মৃত ছাত্রীকে গণধর্ষণের শিকার হতে হয়েছে। ২-৩জন নাকি ছিল। সিপিও এ ব্যাপারে নিশ্চিত করে এখনও কিছু বলতে পারেননি। জানিয়েছেন, তদন্তে সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে”। যদিও এই বিষয়ে কোনও মন্তব্য করে নি কলকাতা পুলিশ।

RELATED Articles