নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশ হতেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে শুরু হয় বিজয় মিছিল। কিন্তু সেই আনন্দ পরিণত হল আতঙ্কে। নদিয়ার কালীগঞ্জে তৃণমূলের বিজয় মিছিল ঘিরেই ঘটে গেল এক মর্মান্তিক ঘটনা। অভিযোগ, মিছিল থেকে বোমা ছোঁড়া হয়, আর তাতেই প্রাণ হারায় এক নাবালিকা। ভোটপরবর্তী হিংসার অভিযোগে উত্তাল রাজনৈতিক মহল। মুখ খুললেন তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ। পাল্টা কটাক্ষ করলেন DYFI নেত্রী মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়কেও।
ঘটনার পরেই তীব্র প্রতিক্রিয়া জানান মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়। তিনি বলেন, “এটা বিজয়োল্লাস নয়, এটা গুন্ডাগিরি। পশ্চিমবঙ্গে এই গুন্ডারাজ চলছে সরকারের মদতেই।” তিনি আরও দাবি করেন, যে দল জেতে, তাদেরই একাংশ এই ধরনের সন্ত্রাসে মেতে ওঠে। এরপরই রাজনৈতিক বিতর্ক তুঙ্গে ওঠে।
ঘটনার তীব্র নিন্দা করলেও কুণাল ঘোষ জানান, দোষীদের কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। তাঁর কথায়, “কে কোন দল সেটা জানার দরকার নেই। যেই হোক, চামড়া তুলে দেওয়া উচিত।” তিনি জানান, ইতিমধ্যেই চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। রাজ্য সরকার এবং পুলিশ যথাযথ পদক্ষেপ করছে।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে কুণাল ঘোষ বলেন, “মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায় কি জানেন, ওনার এক জ্যেঠুর নাম ছিল রবিন দেব, যিনি একসময় রিগিং দেব হয়ে গিয়েছিলেন।” তিনি জানান, যারা এক সময় গুলিচালনার মাধ্যমে নির্বাচন ‘রক্তে রাঙিয়েছিল’, তাদের মুখে আজকের ঘটনায় নৈতিকতা নিয়ে কথা শোভা পায় না। প্রসঙ্গ টেনে আনেন বালিগঞ্জের উপনির্বাচনের কথা, যেখানে সিপিএমের গুলিতে মৃতদেহ পড়েছিল বলে দাবি কুণালের।
আরও পড়ুনঃ Air India : ফের বিতর্কে এয়ার ইন্ডিয়া! মাঝ আকাশে গুরুতর অসুস্থ যাত্রী-ক্রু, জরুরি পরিস্থিতিতে অবতরণ বিমানের!
তৃণমূল নেতার দাবি, যদি কেউ সত্যিই বিজয়ের নামে সন্ত্রাস ছড়ায়, তাকে শাস্তি হোক। আবার কেউ যদি ইচ্ছাকৃতভাবে এই কাজ করে তৃণমূলকে বদনাম করার চেষ্টা করে, তবে সেটাও তদন্তসাপেক্ষ। অর্থাৎ দুই দিক থেকেই বিষয়টি খতিয়ে দেখতে বললেন তিনি। অন্যদিকে, সিপিএম এবং DYFI-র তরফে ঘটনায় দোষীদের কঠোর শাস্তির দাবিতে সরব হয়েছে।





