‘মমতা রামকৃষ্ণ আর অভিষেক বিবেকানন্দ’, ফের এক নতুন উপমা দলনেত্রীর, তুলনা টেনে বিতর্কে জড়ালেন কুণাল

একের পর এক নতুন উপমায় ভূষিত হয়েই চলেছেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিছুদিন আগেই শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে চৈতন্যদেবের উত্তরাধিকারী বলে মন্তব্য করেছিলেন। আর এবার তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ মমতাকে রামকৃষ্ণ ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিবেকানন্দ বলে আখ্যা দিলেন।  

বিগত কয়েকদিন ধরে তৃণমূলের অন্দরে কান পাতলেই শোনা যাচ্ছে, অভিষেকের নাকি অভিমান হয়েছে। দলের একাংশের কাজে নাকি বেশ অসন্তুষ্ট তিনি। নিজের সংসদীয় কেন্দ্র ডায়মন্ড হারবারের বাইরে কোনও কাজ করছেন না অভিষেক। প্রকাশ্যে কেউ এই নিয়ে কোনও মন্তব্য না করলেও, এমনটা যে হচ্ছে, তা স্পষ্ট।

কী বললেন কুণাল?

এরই মধ্যে এবার গতকাল, রবিবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে কুণাল ঘোষ বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় হচ্ছেন শ্রীরামকৃষ্ণ, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় হলেন স্বামী বিবেকানন্দ। শ্রী রামকৃষ্ণের অনেক শিষ্য ছিলেন। তাও তাঁর কথা লোকে বিবেকানন্দের মুখেই শুনতে চাইতেন। তেমনই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতাদর্শ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের মধ্যে দিয়েই মানুষ দেখতে চান। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উন্নয়ন, তাঁর ত্যাগ, তাঁর আন্দোলনের কথা মানুষ অভিষেকের মধ্যে দিয়ে দেখতে চাইছেন”।

কী প্রতিক্রিয়া বিজেপির?

কুণালের এহেন মন্তব্য প্রসঙ্গে কটাক্ষ করে বিজেপি নেতা সজল ঘোষ বলেন, “মানসিক সমস্যা না থাকলে কেউ এরকম বলতে পারে না। উনি তো জেন্ডার বদলে দিচ্ছেন”। এর আগে তৃণমূল বিধায়ক তথা চিকিৎসক নির্মল মাজি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সারদা দেবীর সঙ্গে তুলনা করেছিলেন। এদিন সেই প্রসঙ্গ তুলেও শাসক দলকে কটাক্ষ করেছেন বিজেপি নেতা।

প্রসঙ্গত, রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, তৃণমূলে আপাতত নবীন ও প্রবীণ তত্ত্ব নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে। এমন পরিস্থিতিতে ভারসাম্য বজায় রাখার জন্য এহেন তুলনা টেনেছেন কুণাল। তিনি কয়েকদিন আগে এও বলেছিলেন যে ২০৩৬ পর্যন্ত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মুখ্যমন্ত্রী থাকবেন, আর তারপর মুখ্যমন্ত্রী হবেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।

RELATED Articles