এবার অনুব্রত মণ্ডলের নিদান শোনা গেল কুণাল ঘোষের গলায়। বিরোধীদের চড়াম চড়াম ঢাকের বাদ্যি শোনানোর হুঁশিয়ারি দিলেন তিনি। তাদের জল-নকুলদানা দেওয়ার নিদানও দিলেন তৃণমূল নেতা। এরই সঙ্গে তাঁর বার্তা, যারা মুখ্যমন্ত্রীকে অশালীন ভাষায় আক্রমণ করেন, তাদের জন্য যেন এই ব্যবস্থা করা হয়।
কেন্দ্রের বঞ্চনার প্রতিবাদে দু’দিন ধর্নায় বসেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। গত শনিবার সেই ধর্না শেষ হলেও ১৩ তারিখ পর্যন্ত সেই মঞ্চ চালিয়ে যাওয়ার জন্য নানান সংগঠনকে দায়িত্ব দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। গতকাল, রবিবার গোটা দিন মঞ্চে ছিলেন তৃণমূল যুবনেত্রী সায়নী ঘোষ। বিকেলের দিকে মঞ্চে আসেন তৃণমূল মুখপাত্র কুণাল ঘোষ। আর সেখান থেকেই বিরোধীদের একহাত নিলেন তিনি।
কী বললেন কুণাল এদিন?
এদিন বিরোধীদের বিরুদ্ধে সুর চড়িয়ে কুণাল ঘোষ বলেন, “মুখ্যমন্ত্রীর নাম ধরে এরা গালাগাল দেয়। রবীন্দ্রসঙ্গীত শুনিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তার মানে এই নয়, যে সিবিআই-ইডি দেখিয়ে একের পর এক অসভ্যতা করে যাবে বিজেপি। আর তৃণমূল আঙুল চুষবে। তৃণমূল এই সব অসভ্যতার জবার মানুষের ভোটে দেবে”।
এরপরই তাঁর হুঁশিয়ারি, “তৃণমূল রবীন্দ্রসঙ্গীত শোনায়। এ বার আমাদের দলের নেতানেত্রীদের বলতে হবে। এক বার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। কোনও রবীন্দ্রসঙ্গীত নয়। রেজাল্টের দিন বিকালে ডিজে বাজাবো সারা বাংলায়। আমাদের নেত্রীকে নাম রোজ নাম ধরে ধরে আক্রমণ করবে। আর রসগোল্লা খাওয়াব ওদের? হবে না। অনেক হয়েছে। আর হবে না। বীরভূমে নকুলদানা দিয়ে যদি জল না দেওয়া হয়, যদি আবার চড়াম চড়াম করে ঢাকের বাদ্যি না শোনানো হয়, তাহলে এরা করেই যাবে কুৎসা। অপসংস্কৃতি তৈরি করেছে। কোনও অবস্থায় আমরা এগুলো হতে দেব না”। বিজেপির তরফে এখনও কুণালের এহেন মন্তব্যের কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
প্রসঙ্গত, ২০২২ সালের আগস্ট মাস থেকে গরু পাচার কাণ্ডে জেলবন্দি রয়েছেন বীরভূমের বেতাজ বাদশা অনুব্রত মণ্ডল। তিনি ছাড়া চলছে বীরভূমের সংগঠন। একসময় যখন মনে হতে শুরু করেছিল যে অনুব্রত মণ্ডল ধীরে ধীরে বীরভূমের রাজনীতিতে অপ্রাসঙ্গিক হয়ে পড়ছেন, সেই সময় তাঁর ছবি দেখা যায় বীরভূমে। আর এবার তৃণমূলে নেতার মুখে কেষ্টর এই নিদান শুনে এটা বেশ স্পষ্ট যে কেষ্ট আপাতত জেলবন্দি থাকলেও দলে তাঁর গুরুত্ব তেমনই রয়ে গিয়েছে।





