ছাত্রনেতার বিরুদ্ধে ধ’র্ষ’ণের অভিযোগ, কিন্তু নির্যাতিতার বিরুদ্ধেই গ্রেফতারির পরোয়ানা জারি করল আদালত, কেন এমন নির্দেশ?

ধ’র্ষ’ণে’র অভিযোগ রয়েছে ছাত্রনেতার বিরুদ্ধে। এক বছরের বেশি সময় হয়ে গিয়েছে সেই ঘটনার। কিন্তু এসেই মামলা এখনও বিচারাধীন। কিন্তু অভিযুক্তকে ছেড়ে খোদ নির্যাতিতাকেই গ্রেফতার করার নির্দেশ দিল আদালত। এমন নির্দেশ শুনে বেশ হতভম্ব সকলে। কেন এমন নির্দেশ?  

কী ঘটেছিল ঘটনাটি?

২০২৩ সালের ছাত্রনেতা শুভদীপ গিরির বিরুদ্ধে কাঁথি মহিলা থানায় ধ’র্ষ’ণে’র অভিযোগ দায়ের করেছিলেন নির্যাতিতার পরিবার। সেই মামলার গড়িয়েছিল হাইকোর্ট পর্যন্ত। পরে ওই অভিযুক্ত ছাত্রনেতা কাঁথি আদালতে গিয়ে আত্মসমর্পণ করেছিলেন। জেলেও যান তিনি। তবে পরবর্তী হাইকোর্টের থেকে জামিনে পেয়ে যান অভিযুক্ত। তবে আদালতের শর্ত অনুযায়ী, পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় থাকতে পারবেন না ওই অভিযুক্ত ছাত্রনেতা। সেই কারণে বর্তমানে জেলার বাইরে রয়েছেন তিনি।

এদিকে এই মামলায় সাক্ষী দেওয়ার জন্য একাধিকবার তলব করা হয় নির্যাতিতাকে। কিন্তু তা সত্ত্বেও একবারও সাক্ষী দানের জন্য যান নি ওই যুবতী। তাতেই ক্ষোভ বর্ষণ করে কাঁথি আদালতের ফাস্ট ট্র্যাক কোর্ট (পকসো)। জানা গিয়েছে, ওই ঘটনার সময় নির্যাতিতা নাবালিকা থাকলেও, এখন তিনি প্রাপ্ত বয়স্কা।

কেন সাক্ষী দানের জন্য অনুপস্থিত নির্যাতিতা?

এই মামলা চলছে কাঁথি আদালতের ফাস্ট ট্র্যাক কোর্টের বিচারক অজেন্দ্র নাথ ভট্টাচার্যের বেঞ্চে। নির্যাতিতার অনুপস্থিতির কারণ হিসবে তাঁর বাবা আদালতে জানান যে তাঁর মেয়ে অসুস্থ থাকায় হাজিরা দিতে পারেন নি। কিন্তু একবার-দু’বার নয়, আটবার তলবের পরও সাক্ষী হিসেবে উপস্থিত থাকেন নি ওই যুবতী। নির্যাতিতার পক্ষে অসুস্থতার সার্টিফিকেট জমা করা হয় আদালতে। সেই সার্টিফিকেটেই গরমিল রয়েছে বলে সন্দেহ করেন বিচারক। আর এরপরই ওই তরুণীকে গ্রেফতার করার নির্দেশ দিল কাঁথি আদালত।

এই বিষয়ে অভিযুক্ত ছাত্রনেতার আইনজীবীর দাবী, “কাঁথি আদালতে ৮ টি সাক্ষ্য দেওয়ার দিন গিয়েছে, নির্যাতিতা সাক্ষ্য দিতে আসেননি। ওই নির্যাতিতা কখনও বলছেন পরীক্ষা আছে, কখনও বলছেন অসুস্থ”। আগামী ১৯ ফেব্রুয়ারির মধ্যে এই গ্রেফতারির পরোয়ানা কার্যকর করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে কাঁথি মহিলা থানার আইসিকে।   

এদিকে কাঁথি শহরের তৃণমূল নেতা সুরজিৎ নায়কের দাবী, নির্যাতিতার বাবা বিজেপি করেন। সেই কারণেই ছাত্রনেতার বিরুদ্ধে সুপরিকল্পিতভাবে ধ’র্ষ’ণে’র মামলা সাজানো হয়েছে। এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন স্থানীয় বিজেপি নেতা কনিষ্ক পণ্ডা। তাঁর দাবী, এই অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যে। এই ঘটনার সঙ্গে রাজনীতির কোনও যোগ নেই।

RELATED Articles