‘শুভেন্দুর কাজের দায় আপনাকেও নিতে হবে’, আসানসোল পদপিষ্ট কাণ্ডে বিচারপতি মান্থাকে বেলাগাম আক্রমণ কুণালের

গতকাল, বুধবার আসানসোলে (Asansol) ঘটে গিয়েছে এক মর্মান্তিক ঘটনা। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) কম্বল বিতরণ কর্মসূচিতে পদপিষ্ট হয়ে প্রাণ হারান তিনজন। অনেকেই আহত হয়ে এখন হাসপাতালে ভর্তি। এই ঘটনার দায় কার, তা নিয়ে রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়েছে। এবার এই ঘটনায় শুভেন্দুর পাশাপাশি কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি রাজশেখর মান্থাকেও (Justice Rajshekhar Mantha) আক্রমণ করলেন তৃণমূলে রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ (Kunal Ghosh)। তাঁর কথায়, এই ঘটনায় দায় বিচারপতি মান্থারও।

এই প্রসঙ্গে কুণাল বলেন, “পুলিশ ওইটুকু জায়গায় অনুমতি দেয়নি। বড় জায়গায় করতে বলেছিল। কেউ যোগাযোগ করেনি। মানুষকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিয়েছে। তৃণমূলের নেতারা মানুষকে উদ্ধার করতে গিয়েছিলেন”।

এদিন সাংবাদিক বৈঠকের মাঝে এরপর শুভেন্দু অধিকারীর বক্তব্যের একটি ভিডিও দেখিয়ে বিচারপতি রাজাশেখর মান্থাকে আক্রমণ শানান কুণাল। তিনি বলেন, “শুভেন্দু পুলিশকে হুমকি দিচ্ছে। আর আপনি বিচারপতি মান্থা নিরাপত্তা দিচ্ছেন। কালকের ঘটনার দায়িত্ব আপনাকেও নিতে হবে। ওর অবচেতনে বিচারপতি মান্থার রক্ষাকবচ কাজ করছে। আচমকা যদি কোনও ঘটনা ঘটে। তার জন্য আদালতের অপেক্ষায় থাকতে হবে? সুপ্রিম কোর্টে সিরিজ অফ অর্ডার আছে, আদালত কোনও তদন্তের উপর হস্তক্ষেপ করবে না। শুধু মনিটর করতে পারে। মান্থার সুরক্ষাবলয় পক্ষপাতদুষ্ট। ন্যায় বিচারের পরিপন্থী”।

এদিন শুভেন্দুর গ্রেফতারির দাবীও জানান তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক। বলেন, “শুভেন্দু আর তার সাঙ্গপাঙ্গরা মানুষকে বিপদে ফেলে পালিয়ে গিয়েছে। কম্বল দেখিয়ে লোক এনেছিল। উদ্ধার কাজে গেল না কেন? একটাও অ্যাম্বুল্যান্স ছিল না কেন? দায়িত্বজ্ঞানহীন। এদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে মামলা করা উচিত”।

প্রসঙ্গত, গতকাল, বুধবার আসানসোল কর্পোরেশনের ২৭ নম্বর ওয়ার্ডে ‘শিবচর্চা’ নামের একটি কর্মসূচি করা হয়। এই কর্মসূচির মূল উদ্যোক্তা ছিলেন বিজেপি নেতা জিতেন্দ্র তিওয়ারির স্ত্রী চৈতালি তিওয়ারি। এদিন শুভেন্দু অধিকারীর ভাষণ শেষে কম্বল বিতরণ করে চলে যাওয়ার পরই চরম বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

এদিন সভায় ৫ হাজার কম্বল বিতরণের কথা ছিল। কিন্তু ভিড় নিয়ন্ত্রণ ও কম্বল নিতে আসা হাজার হাজার মানুষের শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য কোনও ব্যবস্থাই ঠিকঠাকভাবে গ্রহণ করা হয়নি। এর জেরে শুরু হয় চরম বিশৃঙ্খলা ও হুড়োহুড়িতে পদপিষ্ট নহ্যে মৃত্যু হয় এক কিশোরী-সহ দুই মহিলার।

কেন এমন দুর্ঘটনা ঘটল, তা খতিয়ে দেখার জন্য আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। ডিসি পদমর্যাদার আধিকারিকদের নেতৃত্বে এই তদন্ত চলবে। তদন্ত কমিটির সদস্যরা যত দ্রুত সম্ভব পুলিশ সুপার ও জেলাশাসকের কাছে এই তদন্তের রিপোর্ট জমা দেবে বলে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।  

RELATED Articles