করোনা সংক্রমন রুখতে দেশব্যাপী লকডাউন জারি হলেও মানুষ এখনও নানান অছিলায় বাড়ি থেকে বের হয়ে যাচ্ছেন। তাই মানুষকে বাড়ির মধ্যে রাখতে তাদের বাইক বা গাড়িগুলোর ওপর নিয়ন্ত্রণ জারি করল বীরভূম পুলিশ প্রশাসন। এর আগে দিল্লিতে দূষণ রুখতে দিল্লি সরকার রাস্তায় বের হওয়া গাড়ির ক্ষেত্রে জোড়-বিজোড় নিয়ম শুরু করেছিল।
এক্ষেত্রে জোর বিজোড় নয় তবে এক নতুন পন্থা বার করল বীরভূম পুলিশ।
বীরভূম পুলিশের নির্দেশিকায় একেবারে ভিন্ন ধরনের নির্দেশের কথা বলা হয়েছে। যেখানে বাইক হোক অথবা গাড়ি লকডাউন চলাকালীন সপ্তাহে মাত্র দুবারই তা ব্যবহার করা যাবে। আর এই নির্দেশিকাকে অমান্য করলে তার বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
কিন্তু কিভাবে জেলার এতো পরিমাণ গাড়িকে আটকাবে পুলিশ? তার জন্যও রাস্তা বার করেছে প্রশাসন।
করোনার জেরে এমনিতেও প্রতিটি জেলায় কড়া নজরদারি চালানো হচ্ছে। এবার মঙ্গলবার থেকে বীরভুমের বোলপুর ও সিউড়ি শহরে পুলিশের তরফ থেকে রাস্তায় বের হওয়া মোটরবাইক অথবা চারচাকা গাড়িগুলিকে আটকানো হয়। তারপর সেই গাড়িগুলিতে পুলিশ কিছু স্টিকার লাগিয়ে দেন। যাতে করে এই গাড়িগুলোকে সহজেই চিহ্নিত করা যায়।
কিন্তু যাদের গাড়িতে স্টিকার লাগানো হলো তারা যদি সেটা তুলে দেয় তখন কিভাবে বুঝবে পুলিশ? পুলিশের তরফ থেকে এদিন যে স্টিকার লাগানো হয় সেই স্টিকারে গাড়িটির সমস্ত গতিবিধি অর্থাৎ গাড়িটি কোন রাস্তা দিয়ে যাচ্ছে, কবে বেরিয়েছিল সব লিখে রাখছে পুলিশ। একই তথ্য পুলিশ খাতায়ও নোট করছেন তারা, যাতে করে কেউ যদি স্টিকার তুলেও ফেলে তাহলেও সে ছাড় না পায়। পুলিশের তরফ থেকে জানানো হয়েছে, এমনটা করা হলে ওই বাইক বা গাড়ি ও তার মালিককে আটক করা হবে।
লকডাউন শুরুর পর থেকেই মানুষ নানা অজুহাতে বাইরে বেরোন। কখনো বাজারে, কখনো আবার প্রেস্ক্রিপশন হাতে ওষুধের দোকানে, অনেক ক্ষেত্রে যোগ হয়েছে ব্যাঙ্কের পাসবইও। আর এই সকল অজুহাত ঠেকাতেই এবার উদ্যোগ নিল পুলিশ। মোটের উপর এবার বাজার করা হোক অথবা ওষুধ কিংবা ব্যাঙ্কের কাজ সপ্তাহের ওই দুটি দিনেই সব কিছু করে ফেলতে হবে।





