RG Kar Medical College and Hospital : ‘এটা দুর্ঘটনা নয়, চরম গাফিলতি!’— RG Kar-এ লিফট মৃত্যুর ঘটনায় ক্ষোভে ফুঁসে উঠলেন অভয়ার মা, আবারও প্রশ্নে হাসপাতালের নিরাপত্তা!

হাসপাতালে চিকিৎসা করাতে গিয়ে প্রাণ হারানোর ঘটনা নতুন নয়, কিন্তু কিছু কিছু দুর্ঘটনা যেন শুধু একটি পরিবার নয়, পুরো সমাজকেই নাড়িয়ে দেয়। বিশেষ করে যখন সেই জায়গাটি হওয়া উচিত সবচেয়ে নিরাপদ—একটি সরকারি হাসপাতাল। সম্প্রতি এমনই এক মর্মান্তিক ঘটনা ঘিরে আবারও চাপে আরজি কর হাসপাতাল (RG Kar Medical College and Hospital) কর্তৃপক্ষ। শুধু একটি দুর্ঘটনা নয়, বরং বারবার উঠে আসছে নিরাপত্তা ব্যবস্থার গুরুতর প্রশ্ন।

এই ঘটনার পর ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন ‘অভয়া’-র মা। তাঁর বক্তব্য, “এটাকে দুর্ঘটনা বলা যায় না।” একসময় এই একই হাসপাতালে ডিউটি করতে এসে নিজের মেয়েকে হারানোর যন্ত্রণা এখনও ভুলতে পারেননি তিনি। সেই স্মৃতিই যেন নতুন করে জেগে উঠেছে এই ঘটনার পর। তাঁর অভিযোগ, লিফটে কোনও লিফটম্যান ছিল না, ভিতরে আটকে পড়া মানুষ সাহায্যের জন্য চিৎকার করলেও কেউ এগিয়ে আসেনি। এই বক্তব্য ঘিরেই নতুন করে প্রশ্ন উঠছে—হাসপাতালের ভেতরে জরুরি পরিস্থিতিতে সাড়া দেওয়ার ব্যবস্থা আদৌ কার্যকর কি না।

শুক্রবার ভোরে ঘটে যায় এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। দমদমের বাসিন্দা অরূপ বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর অসুস্থ ছেলেকে নিয়ে ট্রমা কেয়ার বিল্ডিংয়ে যান। লিফটে ওঠার পর হঠাৎই সেটি অস্বাভাবিকভাবে ওঠানামা করতে শুরু করে। আতঙ্কের মধ্যে এক সময় দরজা খুলে গেলে তিনি প্রথমে স্ত্রী ও সন্তানকে বের করে দেন। কিন্তু নিজে বেরোতে গিয়ে আচমকা লিফটের দরজা বন্ধ হয়ে শরীরের অর্ধেক আটকে যায়। এরপর লিফট নীচে নেমে গেলে ভয়ঙ্কর চাপে শরীর মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় তাঁর। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় ওই ব্যক্তির।

ময়নাতদন্তের রিপোর্টে এই মৃত্যুর ভয়াবহতা আরও স্পষ্ট হয়েছে। জানা গেছে, পলি ট্রমার কারণে মৃত্যু হয়েছে অরূপের। শরীরের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল—পাঁজরের হাড় ভেঙে যাওয়া থেকে শুরু করে হৃদপিণ্ড, ফুসফুস, প্লীহা পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত। এমনকি অন্ত্রও ফেটে যায়। এই রিপোর্ট শুধু একটি দুর্ঘটনার চিত্র নয়, বরং প্রশ্ন তোলে—যন্ত্রপাতির রক্ষণাবেক্ষণ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা কতটা অবহেলিত ছিল।

আরও পড়ুনঃ “আমাদের মনের মিল ১০০ শতাংশের বেশি…জ্যোতিষীরা বলেছেন কালারফুল থাকতে” কাঞ্চনের সঙ্গে রঙিন প্রেমের রহস্য ফাঁস করলেন শ্রীময়ী!

এই ঘটনার পর দায় এড়াতে পারেনি হাসপতাল কর্তৃপক্ষ। প্রাথমিকভাবে রক্ষণাবেক্ষণের অভাব ও দায়িত্বে গাফিলতির অভিযোগ উঠেছে। ইতিমধ্যেই পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যাদের মধ্যে লিফটম্যান এবং নিরাপত্তারক্ষীরাও রয়েছেন। অভিযোগ দায়ের হয়েছে অনিচ্ছাকৃত খুনের ধারায়। তবে এখানেই শেষ নয়—প্রশ্ন রয়ে গেছে আরও গভীরে। বারবার একই প্রতিষ্ঠানে এমন ঘটনা কেন ঘটছে? নিরাপত্তা নিয়ে এত অভিযোগ উঠলেও কেন পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে না? এই প্রশ্নগুলোর উত্তরই এখন খুঁজছে শহর, আর তাকিয়ে রয়েছে পরবর্তী তদন্তের দিকে।

Khabor24x7 Desk

আরও পড়ুন

RELATED Articles