টালিগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্রে তৃণমূল কংগ্রেসের অরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে এবার লড়বেন অভিনেত্রী পাপিয়া অধিকারী। বিজেপি থেকে প্রার্থী হওয়ার পরই তিনি দলের কর্মীদের সঙ্গে দেখা করে নির্বাচনী পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করেন। পাপিয়া বলেন, “মানুষের মধ্যে উচ্ছ্বাস স্পষ্ট। নরেন্দ্র মোদি দাদাকে জিতাতে কী করা যায়, সেই চেষ্টা করব। তিনি সব বাংলার মেয়েদের ভাই ভাবেন। তাই আমাদেরও চেষ্টা করতে হবে।” তিনি নির্বাচনী প্রচারের সঙ্গে সরাসরি জড়িয়ে পড়ার সংকল্প ব্যক্ত করেন।
প্রার্থী হয়ে পাপিয়া অধিকারী নারীর নিরাপত্তার বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “নারীর নিরাপত্তা আজ তলানিতে। আমাদের লক্ষ্য শুধু টালিগঞ্জ নয়, বাংলার যে কোনও জায়গায় যদি অনিয়ম, দুর্নীতি বা অন্যায় দেখা যায়, সেটাকে রুখব।” তিনি দাবি করেন, বাংলার মেয়েদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ তৈরি করা এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াই করা তার প্রধান লক্ষ্য হবে। এই বার্তায় স্পষ্ট যে তিনি শুধু ভোট নয়, দীর্ঘমেয়াদী সামাজিক পরিবর্তনেও মনোযোগ দেবেন।
এদিকে বিজেপি সম্প্রতি দ্বিতীয় দফায় ১১১ জন প্রার্থীর তালিকা প্রকাশ করেছে। প্রথম দফায় ১৪৪ জনের নাম ঘোষণা করা হয়েছিল। এর মধ্যেই হিরণ চ্যাটার্জির প্রার্থীতার গুঞ্জন শেষ হয়েছে। তিনি শ্যামপুর থেকে তৃণমূলের শশী পাঁজার বিরুদ্ধে লড়বেন। হিরণের ব্যক্তিগত জীবনের জটিলতা নিয়ে যে গুঞ্জন ছিল, তা এবার মিথ্যা প্রমাণিত হলো। শ্যামপুরে তার প্রার্থী হওয়ায় অনেক ভোটারের আশা ও আগ্রহ বেড়েছে।
অন্যদিকে, সোনারপুর দক্ষিণ কেন্দ্র থেকে বিজেপি প্রার্থী হলেন রূপা গাঙ্গুলি। তিনি বলেন, “নির্বাচনে জেতা বা হারার চেয়ে প্রার্থী হওয়াটা একটি দায়িত্ব। মানুষের কাছে পৌঁছে তাদের সমস্যা বোঝা এবং সমাধানের চেষ্টা করা প্রয়োজন। আমি সেই দায়িত্ব পালন করব।” তিনি ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ এবং শান্তিপূর্ণ নির্বাচনী পরিবেশ তৈরিতে গুরুত্ব দিতে চাইছেন। রূপা বলেন, রাজ্যে নারী এবং সাধারণ মানুষ উভয়ের নিরাপত্তা এখন বড় চ্যালেঞ্জ।
আরও পড়ুনঃ RG Kar Medical College and Hospital : ‘এটা দুর্ঘটনা নয়, চরম গাফিলতি!’— RG Kar-এ লিফট মৃত্যুর ঘটনায় ক্ষোভে ফুঁসে উঠলেন অভয়ার মা, আবারও প্রশ্নে হাসপাতালের নিরাপত্তা!
রূপা আরও বলেন, “রাজনৈতিক মতের ভিন্নতা থাকতে পারে, কিন্তু তা কখনো সহিংসতার পর্যায়ে পৌঁছাবে না। মানুষ শান্তিতে থাকতে চায়। আমাদের বার্তা হবে সহিংসতা নয়, শান্তিপূর্ণ সমাধান।” তিনি আশ্বস্ত করেন যে তাঁর প্রচারণা হবে সুস্থ, স্বচ্ছ এবং মানুষের নিরাপত্তা ও কল্যাণকেন্দ্রিক। ভোটাররা এই বার্তা গ্রহণ করলে রাজ্যে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে বলে তিনি মনে করছেন।





