আজ দোল অর্থাৎ রঙের উৎসব। এই উৎসবে একটু রঙিন জল দিয়ে গলা না ভেজালে যেন আবার ঠিক দিন সম্পূর্ণ হয় না সুরাপ্রেমীদের। কিন্তু দোলের দিন তো ‘ড্রাই ডে’। এটা ভেবেই গতকাল থেকেই মুষড়ে রয়েছেন সুরাপ্রেমীরা। রঙের উৎসব বলে কথা আর একটু রঙিন জলে গলা ভিজবে না, তা আবার হয় নাকি! এবার তাই সুরাপ্রেমীদের জন্য বড় সুখবর দিল আবগারি দফতর।
বছরের শুরুতেই আবগারি দফতরের তরফে জানিয়ে দেওয়া হয়, বছরের কোন কোন দিন ‘ড্রাই ডে’ হতে চলেছে। ‘ড্রাই ডে’র অর্থ যেদিন ম’দ কেনাবেচা বন্ধ থাকে। অর্থাৎ ম’দের রসে গলা ভেজে না সেদিন। শুকনোই থাকে, সেই কারণেই ড্রাই ডে। আবগাড়ি দফতর চলতি বছরের জানুয়ারি মাসের শুরুতেই জানিয়েছিল বছরের চারদিন ড্রাই ডে অর্থাৎ সেদিন গোটা দিনই বন্ধ থাকবে ম‘দের দোকান। হবে না কোনও কেনাবেচা।
এই চারদিন হল- ২৬ জানুয়ারি প্রজাতন্ত্র দিবস, ১৫ আগস্ট স্বাধীনতা দিবস, ২ অক্টোবর গান্ধী জয়ন্তী ও মহরমের দশমতম দিন। এই চারদিন গোটা দিনের জন্য বন্ধ থাকবে ম’দের দোকানে। এই তালিকা অনুযায়ী, কোথাও বলে নেই যে দোলের দিন ম’দের দোকান বন্ধ থাকবে। আবগারি দফতর জানাল, দোলের দিন অর্ধ দিবস খোলা থাকবে ম’দের দোকান। তাই আগের থেকে স্টক কিনে রাখার কোনও প্রয়োজন নেই।
আবগারি দফতর জানিয়েছে, সকালে গোটা সময়টা ম’দের দোকান বন্ধ থাকলেও দুপুর ২টোর পর খুলে যাবে দোকান। সারাদিন রঙ খেলার পর দুপুরে মাংস-ভাত খেয়ে বিকেলের দিকে রঙিন আসর বসাতেই পারনে সুরাপ্রেমীরা, তাতে কোনও বাধা নেই। এমনিও গোটা সকালটা রঙ খেলার পর বিকেলের দিকে সেরকম কোনও কাজ থাকবে না। সেই সময় বন্ধুবান্ধবদের নিয়ে আসর জমানো যেতেই পারে এদিন। সেই ব্যবস্থাই করে দিল আবগারি দফতর।
প্রসঙ্গত, গত বছর দুর্গাপুজো হোক বা ডিসেম্বরের সময় ক্রিসমাস বা নতুন বছর উদযাপন, সবেতেই ব্যাপক হারে বিক্রি হয়েছে ম’দ। এই সময়টায় রেকর্ড আয় করেছে আবগারি দফতর। কোনও উৎসবের মরশুমে যে রেকর্ড ভাঙা আয় হয় আবগারি দফতরের, তা বলাই বাহুল্য। সেই কারণেই দোলের দিন গোটা দিনটা ম’দের দোকান বন্ধ রেখে নিজেদের আয়ে ঘাটতি করতে চায়নি রাজ্য। সেই কারণেই এই সিদ্ধান্ত।





