দিঘা-তাজপুর-মন্দারমনিতে ম’দের ফোয়ারা, পুজোর চারদিন শুধুমাত্র পূর্ব মেদিনীপুরেই বিক্রি হয়েছে ৩১ কোটি টাকার ম’দ

পুজোর সময় থাকে না কোনও নিয়ম। সবটাই ভরপুর আনন্দ ও মজা। আর পুজোর সময় তো সুরাপ্রেমীদের উল্লাসের অন্ত থাকে না। জমিয়ে ব্যাটিং করে তারা। আর এর প্রমাণ মিলল পুজোর সময় রঙিন জলের বিক্রি ও লাভের পরিমাণ থেকেই। পুজোর সময় শুধুমাত্র পূর্ব মেদিনীপুরেই বিক্রি হয়েছে ৩১ কোটি টাকার ম’দ।

পুজোর ছুটিতে সমুদ্র সৈকতে সময় কাটাতে বেশ ভালোবাসে বাঙালি। এই সময় দিঘা তো বটেই, শঙ্করপুর, তাজপুর, মন্দারমনিতেও ছিল চোখে পড়ার মতো ভিড়। ঘোরার সঙ্গে সঙ্গে জমিয়ে উল্লাসও করেছে বাঙালি। এর জেরে ম’দ ব্যবসায় বেশ রমরমা দেখা গিয়েছে। শুধুমাত্র একটি জেলা থেকেই ৩১ কোটি টাকার লক্ষ্মীলাভ হওয়ায় বেশ খুশি আবগারি দফতর।

কোনদিন কেমন বিক্রি হল ম’দ?

সূত্রের খবর, ষষ্ঠীর দিনই শুধুমাত্র পূর্ব মেদিনীপুরে ম’দ বিক্রি হয়েছে ৫ কোটি ১১ লক্ষ ৫ হাজার ২৫৭ টাকার। এর মধ্যে দেশি ম’দ বিক্রির পরিমাণ ৬৮ হাজার ৬৭৪ দশমিক ১৬ লিটার এবং বিদেশি মদ বিক্রির পরিমাণ ৩০ হাজার ৯১৯ দশমিক ১২ লিটার। ষষ্ঠীতে ৪৪ হাজার ৭৯ দশমিক ৮৮ লিটার বিয়ার বিক্রি হয়েছে।

আবার সপ্তমীতে পূর্ব মেদিনীপুরে ৬ কোটি ৩৪ লক্ষ ৭৯ হাজার ৬১০ টাকার ম’দ বিক্রি হয়েছে। এদিন ৭২ হাজার ৭৮৬ দশমিক ৪ লিটার দেশি ম’দ ও ৩৬ হাজার ৩৭১ দশমিক ৯৯ লিটার বিদেশি ম’দ বিক্রি হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

অষ্টমীতে ওই জেলায় ৬ কোটি ৪২ লক্ষ ২৮ হাজার ৭৪৪ টাকার ম’দ বিক্রি হয়েছে। এর মধ্যে মোট দেশি ম’দ বিক্রির পরিমাণ ৬৮ হাজার ৩৯৭ দশমিক ৯৬ লিটার আর বিদেশি ম’দ বিক্রি হয়েছে ৪০ হাজার ৬০৮ দশমিক ৩১ লিটার। এদিন ৬৫ হাজার ৪৮৯ দশমিক ৯০ লিটার বিয়ার বিক্রি হয়েছে।

নবমীতে একটু কম ব্যবসা হয়েছে। এদিন দেশি ম’দ বিক্রি হয়েছে ৬৫ হাজার ৯২৪ লিটার। বিদেশি ম’দ বিক্রি হয়েছে ৩৯ হাজার ২০২ দশমিক ৯০ লিটার এবং মোট বিয়ার বিক্রি হয়েছে ৫৮ হাজার ৯৯৯ দশমিক ৩০ লিটার। এদিন মোট দোকান খোলা ছিল ২৮১টি।

তবে নবমীকে টেক্কা দিয়েছে দশমী। এদিন পূর্ব মেদিনীপুরে ৬ কোটি ৮৪ লক্ষ ৬ হাজার ৭১ কোটি টাকার ম’দ বিক্রি হয়েছে। এর মধ্যে দেশি ম’দ ছিল ৭১ হাজার ৫৫৬ দশমিক ৬৫ লিটার আর ৪৬ হাজার ৪৭০ দশমিক ৫০ লিটার ছিল বিদেশি ম’দ ছিল। পুজোর পাঁচদিনে শুধুমাত্র পূর্ব মেদিনীপুরেই ৩১ কোটি ৮ লক্ষ টাকার ম’দ বিক্রি হয়েছে।

RELATED Articles