হাসপাতালে সন্তান জন্ম দেন মানসিক ভারসাম্যহীন মহিলা, চিকিৎসক-নার্সরাই হয়ে ওঠেন অভিভাবক, সেই একরত্তির অন্নপ্রাশন দিল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষই

সকাল থেকেই হাসপাতালে (Kalyani Sub divisional hospital) সাজো সাজো রব। হাসপাতালে এই অন্নপ্রাশন। যে হাসপাতালে জন্ম সে হাসপাতালেই অন্নপ্রাশন। রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে বেড়ানো এক মানসিক ভারসাম্যহীন মায়ের সন্তানের অন্নপ্রাশন করে নজর কাড়ল বাংলার কাটোয়া মহকুমা হাসপাতাল। ২০২৩ সালের শেষের দিকে রিজুওয়ান বিবি নামক এক মানসিক ভারসাম্যহীন মহিলা এই কাটোয়া মহকুমা হাসপাতালে জন্ম দেন এক পুত্র সন্তানের। সন্তানকে জন্মের পর থেকেই তার মা তার সাথে অস্বাভাবিক আচরণ করতে থাকে। এই ঘটনাটি দেখে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বাচ্চাটির সুরক্ষার জন্য তাকে আর তার মায়ের কাছে রাখার সাহস দেখায়নি। তারপর থেকে হাসপাতালের চিকিৎসক নার্সরাই হয়ে ওঠেন ওই ছোট্ট বাচ্চাটির অভিভাবক।

হাসপাতালের (Kalyani Sub divisional hospital) ডাক্তার, নার্সরাই বাচ্চাটির নাম রাখেন রায়ান। ওই হাসপাতালেই ছোট্ট রায়ানের পরিবার। দেখতে দেখতে ছ মাস ওই হাসপাতালেই কাটিয়ে ফেলেছে ছোট্ট একরত্তি। ছমাস হতেই চিন্তা শুরু হয় রায়ানের মুখে ভাত দিতে হবে। এতদিনে বাচ্চাটি তার পরিবারের সঙ্গে থাকলে অন্নপ্রাশনের তোড়জোড় হত। ছোট রায়ানের কাছে পরিবার বলতে হাসপাতাল। জীবনের প্রথম ভাত খাওয়ার আনন্দ থেকে বঞ্চিত হতেই দুধের শিশু সে কথা ভেবেই হাসপাতালের সকলে মিলেই রায়ানের মুখে ভাতের আয়োজন করে।

৯ মাস সন্তানকে নিজের গর্ভে রেখে পৃথিবীর আলো দেখান এক মা। কিন্তু জন্মের পরেই যখন মায়ের কাছে সন্তান অবহেলিত হয়, এর থেকে দুর্ভাগ্যের কিছুই হয় না। আগের বছর মানসিক ভারসাম্যহীন গর্ভবতী এক মহিলাকে কাটোয়ার রাস্তায় ঘুরে বেড়াতে দেখে পুলিশরা কাটোয়া হাসপাতালে (Kalyani Sub divisional hospital) তাকে ভর্তি করে দিয়েছিলেন। সেখানে জন্ম হয় রায়ানের। তবে এই মহিলা এতটাই মানসিক ভারসাম্যহীন তিনি বুঝতেই পারেননি তিনি সন্তানের জন্ম দিয়েছেন। তারপর থেকেই ওই ছোট্ট রায়ান থাকতে শুরু করে এসএনসিইউ বিভাগে। ওই ছোট্ট বাচ্চাটিকে কোলে পিঠে মানুষ করেন মৌমিতা বাগ, জুয়েল সাহা হাসপাতালের কর্মীরাই। তাকে কৃত্রিমভাবে দুধ খাওয়ানো থেকে শুরু করে সবটাই দায়িত্ব নিয়ে করেছেন এসএনসিইউ বিভাগের নার্সরা।

রায়ান হাসপাতালের (Kalyani Sub divisional hospital) নার্স ও চিকিৎসকদের চোখের মনি। তাই কল্যাণী হাসপাতালে বসেছে রায়ানের অন্নপ্রাশনের আসর। এসএনসিইউ বিভাগের পাশের ঘরকে রঙিন বেলুন দিয়ে সাজিয়ে আয়োজন করা হয়েছিল রায়ানের মুখে ভাতের অনুষ্ঠানের। সমস্ত নিয়ম মেনেই হয়েছে অন্নপ্রাশন। ছোট রায়ানকে টোপর, জামা কাপড় পরিয়ে মিষ্টি করে সাজানো হয়েছিল। হাসপাতালেই অন্নপ্রাশনের জন্য বেজেছে শাঁখ, উলুধ্বনি। রায়ানকে দুর্বা দিয়ে আশীর্বাদ করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

রায়ানের মুখে প্রথম অন্য তুলে দিলেন কাটোয়া হাসপাতালে সুপার বিপ্লব মন্ডল। অন্নপ্রাশনের নিয়ম মেনে রায়ান ধরে নিল কলমকে। অন্নপ্রাশন উপলক্ষে হাসপাতালে (Kalyani Sub divisional hospital) আগত সকলকে মিষ্টিমুখ করালেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। তবে অন্নপ্রাশন মিটে যেতেই মন ভারাক্রান্ত এসএনসিইউ বিভাগের নার্সদের। আইন অনুযায়ী এবার রায়ানকে তুলে দিতে হবে শিশু কল্যাণ দপ্তরের হাতে। আনন্দের কথা এই যে ছোট্ট রায়ান একটা নতুন জীবন পাবে।

আরও অন্যান্য খবর