‘একটাও ত্রিপল, খাবার আসেনি, উনি তো এলেন, আর টাটা-বাই বাই করে চলে গেলেন’, মমতা চলে যাওয়ার পরই ক্ষোভ উগড়ে দিলেন বন্যা দুর্গতরা

গত কয়েকদিনের টানা বৃষ্টির জেরে রাস্তা-বাড়ি সব ডুবে গিয়েছে। চাষের জমি প্রবল ক্ষতিগ্রস্ত। এরই মধ্যে আবার মাইথন ও পাঞ্চেত জলাধার থেকে ছাড়া জলের ফলে হাওড়া, হুগলি, ঝাড়গ্রাম, পুরুলিয়া, বর্ধমান-সহ দক্ষিণবঙ্গের নানান জেলায় বন্যা পরিস্থিতি দেখা দিয়েছে। এই পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে জেলা সফরে বেরিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে তাঁর উপর এবার ক্ষোভ উগড়ে দিলেন বন্যা দুর্গতরা।

আজ, বুধবার বন্যা পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে বেরিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। হাওড়া, হুগলির একাধিক জায়গা পরিদর্শন করেন তিনি। কোন কোন এলাকা প্লাবিত, জলবন্দি কত মানুষকে উদ্ধার করা হয়েছে, তাঁদের ত্রাণের ব্যবস্থা-সবকিছুরই খোঁজ নেন। এদিন প্রথমেই তিনি পৌঁছন পুরশুড়ায়। সেখানে সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলেন তিনি।

মুখ্যমন্ত্রী এদিন এলাকায় যেতেই নিজেদের ক্ষোভের কথা জানান বন্যা দুর্গতরা। একজন বলেন, “একটা ত্রিপল পর্যন্ত আসেনি। খাবার পর্যন্ত আসেনি। আমরা প্রতিবছর বন্যায় ভুগি”।

এদিন মুখ্যমন্ত্রী এলাকা ছেড়ে বেরিয়ে যেতেই হরিহর থানার এক ব্যক্তি বলেন, মুখ্যমন্ত্রী তাদের সঙ্গে কথাই বলেন নি। তাঁর কথায়, “মাইকে অঞ্চল থেকে হেঁকে যাচ্ছে উঁচু জায়গায় ঠাঁই নাও। কিন্তু যাবটা কোথায়? একটা ত্রিপল নেই কিচ্ছু নেই। দিদি এলেন। নামলেন। সব মহিলাদের সঙ্গে কথা কি বলেছেন? আর নেতাগুলো একবার আসে”।

অন্য এক মহিলার অভিযোগ, “উনি যে এলেন একবার দাঁড়িয়ে অন্তত দেখতে পারতেন। উনি সাহায্য করবেন না? নাকি আমরা হড়কা বানে ভেসে যাব। বাঁধটা অন্তত ঠিক করে দিন। উনি এলেন আর টাটা-বাইবাই করে চলে গেলেন”। আরও এক মহিলা বলেন, “এসে দাঁড়িয়ে তো দেখতে হবে? জোর হাত করে এসে চলে গেলে হবে”?

আরও পড়ুনঃ ‘সব দাবী তো রাজ্য মেনেই নিয়েছে, এবার কাজে ফিরুন, ১৪ দিনের মধ্যেই…’, সুপ্রিম-শুনানির পরদিনই জুনিয়র চিকিৎসকদের কড়া বার্তা অভিষেকের

এই বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে ডিভিসিকে দুষেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর কথায়, পরিকল্পনা করে বাংলাকে এভাবে ডোবানো হয়েছে। মমতা বলেন, “আমি নিজে মঙ্গলবার ডিভিসির সঙ্গে কথা বলেছিলাম। ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গেও কথা বলেছিলাম। ডিভিসি আরও ২ লক্ষ কিউসেক জল ধরে রাখতে পারতো। তবু পরিকল্পিতভাবে জল ছেড়ে বাংলাকে ডোবাল! এটা ম্যান মেড বন্যা”।

আরও অন্যান্য খবর