বর্ষা আসতে আর বাকি নেই বেশিদিন। এখন লকডাউনে চারিদিকের পরিস্থিতি ভাল না। কিন্তু বাজার খোলা। তাই টুকটাক মাছ পাচ্ছেন বাঙালিরা। যদিও বৃহৎ পরিসরে মাছ ধরা প্রায় বন্ধই। এর ফলে তরতরিয়ে বাড়ছে রুপোলি মাছের ফলন। তাই এ বছর বর্ষায় ভোজন রসিক বাঙালিদের পাতে এক থেকে দেড় কেজির ইলিশ সহজেই মিলতে পারে! এমনটাই মনে করছেন মৎস্য বিশেষজ্ঞরা।
লকডাউনের জেরে ২৪ মার্চ থেকে বন্ধ রয়েছে মাছ ধরা। তার উপর পূর্ব উপকূলে ১৫ এপ্রিল থেকে ১৪ জুন পর্যন্ত নিষেধাজ্ঞা থাকে মাছ ধরার ক্ষেত্রে। এই দুয়ে মিলে এ বছর বর্ষায় বাঙালির পাতে ইলিশের পর্যাপ্ত জোগানের আশা দেখা দিয়েছে।
লকডাউনের ফলে দূষণমুক্ত হয়েছে নদী-নালার জল। ফলে নদীর জলে মাছের খাবার প্লাংকটন পর্যাপ্ত পরিমাণেই রয়েছে। মাছের খাদ্যাভাব হওয়ার কোনও সম্ভাবনাই নেই। তাই পর্যাপ্ত খাবার পেয়ে মাছ বাড়বেও তাড়াতাড়ি। তাই যোগানও হবে প্রচুর।
মৎস্য বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, মাছ বাড়ে প্রধানত দু’ধাপে। প্রথমটায় নদীতে ইঞ্চি চারেক পর্যন্ত, পড়ে সমুদ্রে ফিরে এক বছরের মধ্যে প্রায় ৮০০-৯০০ গ্রাম ওজনের হয়ে ওঠে মাছগুলি। তার পর আবার তারা নদীর জলে ফেরে। এই সময় আরও দেড়-দু’শো গ্রাম ওজন বাড়ে মাছের। এ বছর দূষণমুক্ত জলে পর্যাপ্ত খাবার পেয়ে মাছের চেহারা আর ওজন আরও বাড়বে বলেই আশা বিশেষজ্ঞদের।
রাজ্যের মৎস্যমন্ত্রী চন্দ্রনাথ সিনহা জানান, অতীতে দেখা গিয়েছে, এক বছর ফলন কম হলে পরের বছর বেশি মাছ পাওয়া যায়। গত বছর ইলিশ খুব একটা বেশি ওঠেনি। তাই এ বছরে একটু বেশি মাছ পাওয়ার আশা রয়েছে। তার উপর লকডাউনে মাছধরা টানা অনেকদিন বন্ধ থাকায় পাতে মাছের জোগান আরও বাড়বে এমন আশা করছেন তিনিও।
তাই আর চিন্তা কী! বর্ষায় ঘরে খিচুড়ি আর ইলিশ ভাজা হয়ে যাক!





