পুজোর সময় সমস্ত বাড়িতেই বেশ ভালোমন্দ রান্নাবান্না হয়ে থাকে। পুজোর সময়টা অন্তত তাই গ্যাস সিলিন্ডার ঠিকঠাকভাবে মজুত রাখতে চান সকলেই। কিন্তু এবার পুজোর মুখেই ঘটে গেল বড় বিপত্তি। গ্যাস সিলিন্ডারে পড়তে পারে টান। ফলে পুজোর আগে বা পুজোর সময় গ্যাস সিলিন্ডার পেতে বেশ সমস্যায় পড়বেন গ্রাহকরা।
কেন এমন সমস্যা হবে?
জানা গিয়েছে দুর্গাপুরে একটি রাষ্ট্রায়ত্ত পেট্রলিয়াম সংস্থার বটলিং প্লান্টে লাগাতার ধর্মঘট করছেন ট্রাকচালকদের একাংশ। আর এই বটলিং প্লান্ট থেকেই দক্ষিণবঙ্গের মুর্শিদাবাদ। হুগলি, বীরভূম, পশ্চিম মেদিনীপুর, পুরুলিয়া, বাঁকুড়াতে সরবরাহ হয় গ্যাস সিলিন্ডার। তবে এবার ট্রাক চালকদের এই ধর্মঘটের ফলে গ্যাস সিলিন্ডারে সরবরাহতে টান পড়বে। ফলে গ্যাস সিলিন্ডার পেতে বেগ পেতে হবে গ্রাহকদের।
কেন এই ধর্মঘট?
জানা গিয়েছে, এই বটলিং প্লান্টে গত ২০ দিন ধরে ৩৩ জন ট্রাক চালক ধর্মঘট চালাচ্ছেন। তাদের দাবী, কম পরিমাণ ডিজেল ব্যবহার করে তাদের গাড়ি চালাতে হচ্ছে। এর ফলে গাড়ির ইঞ্জিনের ক্ষতি হচ্ছে। তাদেরদাবি, প্রতি ৩.৫ কিলোমিটার রাস্তা যাওয়ার জন্য প্রতি ট্রাককে ১ লিটার তেল দিতে হবে। তা না হলে তাদের ধর্মঘট চলবে। বলে রাখি, ২০১৩ সালে এক ত্রিপাক্ষিক চুক্তি অনুযায়ী, প্রতি ৩.৬৫ কিলোমিটার রাস্তা যাওয়ার জন্য প্রতিটি ট্রাককে ১ লিটার ডিজেল দেওয়া হয়।
ট্রাক মালিকরা জানাচ্ছেন, এই ধর্মঘটের কারণে তাদের বড় অঙ্কের আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে। দাঁড়িয়ে থাকা প্রত্যেক ট্রাকের জন্য তাদের গড়ে প্রতিদিন ৩,৫০০ টাকা ক্ষতি হচ্ছে। তবে তারা এও জানান, ৩৩ জন ট্রাক চালক ধর্মঘট করলেও বাকি ২৫০ জন ট্রাক চালক কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। ফলে পরিষেবা আপাতত বন্ধ হওয়ার সম্ভাবনা নেই। ট্রাক মালিকদের কথায়, গ্যাস বুক করার অনেকটা সময় পর সিলিন্ডার পেতে পারেন গ্রাহকরা। জানা গিয়েছে, যারা ইনডেন সংস্থার গ্যাসের সংযোগ ব্যবহার করেন, তারাই এই সমস্যার সম্মুখীন হবেন।
আরও পড়ুনঃ ‘কোনও উৎসব নয়, শুধু পুজো হবে’! সরকারি অনুদান ফিরিয়ে দিল তিলোত্তমার পাশের পাড়ার পুজো কমিটি
প্রসঙ্গত, দুর্গাপুরের এই বটলিং প্লান্ট থেকে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৫০ হাজার সিলিন্ডার সরবরাহ করা হয়। এমন আবহে তণমূলের শ্রমিক সংগঠনের নেতারা দ্রুত এই সমস্যা মেটোনার আশ্বাস দিয়েছেন। তবে তা সত্ত্বেও কটাক্ষ করতে ছাড়ছে না বিরোধীরা। তাদের বক্তব্য, তোলাবাজি, কাটমানি ও গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের ফলেই এই সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে। আর এর ফলে সাধারণ গ্রাহকদের ভুগতে হচ্ছে।





