আর জি করের তরুণী চিকিৎসকের ধর্ষণ-খুনের ঘটনায় উত্তাল গোটা রাজ্য। দিকে দিকে চলছে প্রতিবাদ-আন্দোলন। তিলোত্তমার জন্য ন্যায় বিচারের দাবীতে সরব হয়ে পথে নেমেছেন সাধারণ মানুষ। এই ঘটনার প্রতিবাদস্বরূপ দুর্গাপুজোর জন্য দেওয়া সরকারি অনুদান ফিরিয়ে দিয়েছে একাধিক পুজো কমিটি। এবার সেই তালিকায় যুক্ত হল নির্যাতিতার পাশের পাড়াও।
উত্তর ২৪ পরগনার সোদপুরের নাটাগড়ের বাসিন্দার তরুণী চিকিৎসক। সেই জেলারই তৃণমূল পরিচালিত জেলা পরিষদের সভাধিপতি নারায়ণ গোস্বামী গত মঙ্গলবার পুজো উদ্যোক্তাদের সঙ্গে এক বৈঠক করেন। সেই বৈঠকে তিনি বলেন, “এবারের উৎসব আরও বড় করে হবে”। তিনি এও জানান, যেখানে বাউল গান হয় না, সেখানেই বাউল গানের ব্যবস্থা হবে। এই বিষয়ে তিনি পুজো উদ্যোক্তাদের নির্দেশ দেন।
তৃণমূল নেতার এই নির্দেশের বিরোধিতায় নির্যাতিতার পাশের পাড়ার পুজো কমিটি। নারায়ণ গোস্বামির এহেন মন্তব্যের ঠিক পরের দিনই খড়দহ থানায় গিয়ে সরকারি অনুদান প্রত্যাখ্যানের সিদ্ধান্ত লিখিতভাবে জানিয়ে আসেন পুজো কমিটির উদ্যোক্তারা। তাদের কথায়, গোটা পৃথিবী যখন এই ঘটনা নিয়ে প্রতিবাদে সোচ্চার হচ্ছে, সেই সময় তাদের এই অনুদান গ্রহণ করা উচিত নয়।
ওই পুজো কমিটির এক কর্তা জানান, “প্রতি বছর আমাদের পুজোয় ব্যাপক আয়োজন থাকে। নবমীতে খাওয়া দাওয়া হয়। চার দিন ধরে চলে নানা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, নাচ – গান। এবার সব বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে। তিনি বলেন, এবারে অনুদান ফেরত নিয়ে পুজো কমিটির মধ্যে মতনৈক্য ছিল। শেষে বেশ কয়েকজন সদস্য জানিয়ে দেন সরকারি অনুদান নিলে তাঁরা চাঁদা দেবেন না”।
আরও পড়ুনঃ পূরণ হয়নি সব প্রতিশ্রুতি, নিজেদের দাবীর কথা মনে করিয়ে বেঁধে দেওয়া নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যেই ফের মুখ্যসচিবকে চিঠি জুনিয়র চিকিৎসকদের
প্রসঙ্গত, প্রতি বছরই দুর্গাপুজো উপলক্ষ্যে নানান পুজো কমিটিগুলিকে অনুদান দেন মমতা সরকার। গত বছর যে অনুদান ছিল ৭০ হাজার টাকা, এই বছর সেই অনুদান বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮৫ হাজার টাকায়। এই অনুদান নিয়ে হাইকোর্টে মামলা হলে রাজ্যকে এই বিষয়ে কটাক্ষও করেন কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি টি এস শিবজ্ঞানম। এই সরকারি অনুদান প্রত্যাখ্যান করেছেন অনেক পুজো কমিটিই। এবার নির্যাতিতার পাশের পাড়ার পুজো কমিটিও সেই একই পথে হাঁটলেন।





