তৃণমূলের অন্তর্দ্বন্দ্ব ফের প্রকাশ্যে, পার্থ-সুব্রতকে ‘রোগা, মোটা-সোঁটা, সরু’ বলে কটাক্ষ করলেন মদন মিত্র

তৃণমূলের পুরসভার প্রার্থী তালিকা প্রকাশ হওয়ার পর থেকেই তৃণমূলের অন্দরে নানান বিক্ষোভের সৃষ্টি হয়। কামারহাটির বিধায়ক মদন মিত্র আগেই জানিয়েছিলেন যে কামারহাটি পুরসভার প্রার্থী নিয়ে তিনি মোটেই খুশি নন। এই নিয়ে সাংসদ সৌগত রায়ের উপর ক্ষোভ বর্ষণ করেছিলেন তিনি। এবার ফের এক বিস্ফোরক হলেন মদন মিত্র।

আজ, বৃহস্পতিবার এক সভায় উপস্থিত হয়ে পার্থ চট্টোপাধ্যায় ও সুব্রত বক্সীকে আক্রমণ করেন মদন মিত্র। বলেন, “ফেসবুকে সুব্রত বক্সী লিখেছেন মমতা ছাড়া কারও ছবি নয়। কেন? যারা তৃণমূল করে, তারা তো অভিষেকের ছবি দেবেই। দলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পর অভিষেকের মুখই ভালো। বাকিরা তো কেউ মোটা, কেউ সোঁটা, কেউ সরু, কেউ গোটা। প্রতি মুহূর্তে দলে এত পরিবর্তন হলে কী করে চলবে”।

এদিন সৌগত রায়ের উপরেও ক্ষোভ বর্ষণ করে মদন মিত্র বলেন, “ফ্রি থাকলে রবীন্দ্রনাথ, শেলি, কিটস, শরৎচন্দ্রের লেখা পড়ি। সৌগত রায়ের লেখা পড়ি না”।

পুরভোটের প্রার্থী ঘোষণা হওয়ার পর থেকেই শাসকদলের অন্দরে তুঙ্গে তরজা। নানান জায়গায় দেখা দিয়েছে বিক্ষোভ। তৃণমূলের প্রকাশিত তালিকায় অসন্তুষ্ট মদন মিত্রর মতো দলেরই একাংশ নেতা। সেই অসন্তোষ আরও স্পষ্ট হয়েছে কামারহাটির বিধায়কের কথায়।

গত সোমবার দলের শীর্ষ নেতৃত্বের একাংশের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়ে মদন মিত্র বলেছিলেন, “শুধু মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায় যদি একবার বলে সবাই নেমে পড়ো। আর অভিষেক বন্দ্যোপাধ্য়ায় যদি ডায়মন্ড হারবার থেকে বারাকপুর পর্যন্ত জিপে করে একবার ঘোরেন। তাহলেই সব ঠিক হয়ে যাবে। যতদিন অভিষেক-মমতা দলকে নিয়ন্ত্রক করছিল সবাই এক বাক্যে মেনে নিচ্ছিল। কিন্তু নাটেরগুরুরা খালি খুঁজছে কীভাবে তৃণমূলকে নষ্ট করা যায়। জানি না বিজেপি-কংগ্রেসের কালচাল কীভাবে তৃণমূলে ঢুকে পড়েল? কিছু সুযোগ সন্ধানি দলকে ভাঙার চেষ্টা করছে। প্রার্থী বাছাই একদম ঠিক হয়নি। সুব্রত বক্সি দলটা করে কিন্তু পার্থ চট্টোপাধ্যায় আদৌ দলের সবাইকে চেনেন বলে মনে হয় না। দল ঠিক করতে চাইলে অভিষেককে মাঠে নামান”।

শুধু তাই-ই নয়, গত রবিবার কামারহাটির রথতলার এক কর্মীসভা থেকে পুর প্রার্থী নিয়ে দলীয় সাংসদকে আক্রমণ করেন মদন মিত্র। নাম না করে সৌগত রায়কে আক্রমণ শানিয়ে তিনি  বলেন, “যে নেতা কাজুবাদাম, বটিকাবাব, বিরিয়ানি খেয়ে লুঙ্গি তুলে মালিশ করে প্রার্থীর নাম দিয়েছেন, সেই নেতার যদি সাহস থাকে তাহলে কামারহাটি কাছে বিটি রোড দিয়ে যাতায়াত করে দেখান। কামারহাটির মানুষ তাকে বুঝে নেবে”।

RELATED Articles