তৃণমূল বিধায়ক তাপস রায়ের (Tapas Roy) সঙ্গে সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Sudip Banerjee) যে সম্পর্ক তলানিতে ঠেকেছে, তা সকলেরই জানা। শাসক দলের এই দুই তাবড় নেতার বাকযুদ্ধ চলতেই থাকে। এরই মাঝে এই বিতর্কে ঘি ঢাললেন কামারহাটির তৃণমূল বিধায়ক মদন মিত্র (Madan Mitra)। এর আগেও পরোক্ষভাবে তিনি তাপস রায়ের পাশেই দাঁড়িয়েছেন। এবারও সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়কেই খোঁচা দিয়ে মন্তব্য করলেন তিনি।
গতকাল, শনিবার এক অনুষ্ঠানে মদন মিত্র বলেন, “যুধিষ্ঠিরের সঙ্গে এক কুকুর গিয়েছিল। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে যদি দেখেন দুজন গিয়েছেন, তাহলে একজন মদন মিত্র ও অপরজন তাপস রায়”। তাঁর কথায়, “তাপস রায় স্যুট-সাফারি পরে, রঙ মেখে রাজনীতি করতে পছন্দ করেন না। রাস্তায় নেমে গুলি বন্দুকের রাজনীতি করেন”।
এখানেই শেষ নয়। সুদীপকে নিয়ে কামারহাটির বিধায়ক বলেন, “সুদীপদা সিনিয়র নেতা, তাই তাঁর বিরুদ্ধে মুখ খুলতে ইচ্ছুক নই। ১৯৭২ সালে যুব কংগ্রেসের প্রেসিডেন্ট ছিলেন সুদীপ। সেই সময় ক্ষমতায় সিদ্ধার্থ শঙ্কর রায়। সুদীপদা ছিলেন সুখের যুবনেতা”।
উল্লেখ্য, সদ্য বিজেপির উত্তর কলকাতা সাংগঠনিক জেলার সভাপতি হয়েছেন তমোঘ্ন ঘোষ। তৃণমূলের প্রাক্তন এই ছাত্রনেতাকে নিয়ে তৃণমূলের অন্দরে ঝড় ওঠে। সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত তমোঘ্ন ২০২১ সালে যোগ দিয়েছিলেন বিজেপিতে। কল্যাণ চৌবে ভারতীয় ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি হতেই উত্তর কলকাতার দায়িত্ব দেওয়া হল তাঁরই ঘাড়ে। আর এরপরই সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়কে সরাসরি আক্রমণ শানিয়ে বিস্ফোরক দাবী করেন বরানগরের বিধায়ক তাপস রায়।
বলে রাখি, প্রয়াত সোমেন মিত্রের হাত ধরে কংগ্রেস ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দিয়েছিলেন তমোঘ্ন ঘোষ। তবে একুশের বিধানসভা নির্বাচনের আগে তিনি বিজেপিতে যোগ দেন। বিজেপিতে পদপ্রাপ্তি নিয়ে তৃণমূলে বেশ ঝড় উঠেছে। উত্তর কলকাতার রাজনীতিতে তাপস ও সুদীপ একই রাজনৈতিক দলের সেনা হলেও তারা একে অন্যের বিপরীত। একুশের নির্বাচনের পর সুদীপকে সরিয়ে উত্তর কলকাতার তৃণমূল সভাপতি করা হয় তাপসকে। তবে চলতি বছর সুদীপকেই ফের ওই পদে ফেরানো হয়। এর জেরে তাপস-সুদীপের সম্পর্কের আরও অবনতি ঘটেছে।





