গরু পাচার মামলায় আপাতত জেলে রয়েছেন বীরভূমের দোর্দণ্ডপ্রতাপ নেতা অনুব্রত মণ্ডল (Anubrata MandL)। তিনি এই জেলায় তৃণমূল সংগঠনকে বেঁধে রেখেছিলেন বলা যায়। কিন্তু তাঁর জেলে যাওয়ার পরই কী বীরভূমে (Birbhum) তৃণমূল (TMC) দুর্বল হতে শুরু করেছে? কারণ সেখানকার তৃণমূল নেতাদের নানান মন্তব্য ও কার্যকলাপ যেন সেদিকেই ইঙ্গিত দিচ্ছে।
সম্প্রতি একটি ভিডিওকে কেন্দ্র করে বেশ বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর পোস্ট করা একটি ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, তিনি সিউড়ির বামণী কালীমন্দিরে পুজো দিচ্ছেন। কিন্তু সেই ভিডিও নজর কাড়ছে আর দুজনের জন্য। ছবিতে দেখা যাচ্ছে সিউড়ির দুই তৃণমূল কাউন্সিলরকে।
এই ভিডিওতে যে দুই তৃণমূল নেতাকে শুভেন্দুর সঙ্গে দেখা যাচ্ছে, তাঁদের একজন সিউড়ির ৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর উজ্জ্বল চট্টোপাধ্যায়। আর অন্যজন হলেন ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর কুন্দন দে। এই ভিডিওকে ঘিরে বেশ হইচই পড়েছে বীরভূমের রাজনীতিতে। এই দুই তৃণমূল নেতা কী তবে গেরুয়া শিবিরে যোগ দিচ্ছেন? তা নিয়ে শুরু হয়েছে জল্পনা।
তবে এই দাবী উড়িয়ে দিয়েছেন দুই কাউন্সিলরাই। এই ঘটনা প্রসঙ্গে সিউড়ি পৌরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান উজ্জ্বল বলেন, “আমি প্রতিবছরই পুজোর আগে বামণী কালী মন্দিরে যাই। এবছরও গিয়েছিলাম। মন্দিরে থাকাকালীন হঠাৎই দেখতে পাই শুভেন্দু অধিকারী সেখানে এসেছেন। বিগত দিনে একই দলে থাকার সুবাদে তিনি আমার পূর্ব পরিচিত, তাই তাঁর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করি”।
তিনি আরও বলেন, “মায়ের মন্দিরে রাজনীতি কীসের? তৃণমূলের সংস্কৃতিই হল প্রতিটা বিরোধী দল ও তাদের কর্মীদের সম্মান করা। আমিও তৃণমূলের আদর্শ মেনে তাই করেছি এখানে রাজনৈতিক রং লাগানোর কিছু নেই”। এই একই কথা শোনা গিয়েছে কুন্দনের গলাতেও। তবুও এই দুই তৃণমূল নেতাকে নিয়ে জল্পনা যেন পিছু ছাড়ে নি।
উল্লেখ্য, গতকাল, শনিবারই বীরভূমের নলহাটির প্রাক্তন তৃণমূল ব্লক সভাপতি বিভাস চন্দ্র অধিকারী এক বিস্ফোরক মন্তব্য করে রাজনীতিতে ঝড় তোলেন। তিনি বলেন যে সিপিএমকে শেষ করতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উচিত নরেন্দ্র মোদীর হাত ধরা। আর এরপরই সামনে এল শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে দুই তৃণমূল নেতার এই ভিডিও। এর জেরে বীরভূমে তৃণমূলের রাজনীতি নিয়ে বেশ বিতর্ক এই সময়।





