রাজ্য

‘আমাকে কী দিয়েছেন নেত্রী? রাজনীতি ছেড়ে দেব, পদত্যাগ করতে বললে করে দেব, বই লিখব’, এসএসকেএম কাণ্ড নিয়ে হুঁশিয়ারি মদনের

এসএসকেএমের বিরুদ্ধে খারাপ পরিষেবা অপ অব্যবস্থার অভিযোগ এনেছিলেন তিনি। এর জেরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ পরোক্ষভাবে তোপ দাগেন তিনি। এও বলে যে মুখ্যমন্ত্রী নাকি তাদের পাশে রয়েছে। এরপরই সাংবাদিক বৈঠক করে পদত্যাগের হুঁশিয়ারি দিলেন কামারহাটির তৃণমূল বিধায়ক মদন মিত্র। তাঁর সেই হুঁশিয়ারির পর থেকেই গোটা বঙ্গ রাজনীতিতে জল্পনা শুরু হয়েছে।

এদিন মদন মিত্র বলেন, “আমায় পদত্যাগ করতে বললে করে দেব। একটা তো বিধায়ক পদ। কিন্তু বলব এক মাসের মধ্যে নির্বাচন করতে। আমি সোনালি গুহ নই, শুভেন্দু অধিকারী নই, মুকুল রায় নই। আমি মদন মিত্র। উনি আমাকে কী দিয়েছেন? ৫ বছরে পাঁচ মিনিটও সময় দেননি আমায়”।

বিধায়কের কথায়, “নেত্রীর সঙ্গে জেলে যাওয়ার জন্যও তৈরি ছিলাম। এখনও যদি উনি চান, তাহলে জেলে যেতে রাজি। উনি আমার নেত্রী। আমি তাঁকে শ্রদ্ধা করি। কিন্তু ওঁর নাম করে কেউ যদি আমায় কিছু বলে, তাহলে তা আমি মেনে নেব না। দরকারে রাজনীতি ছেড়ে দেব। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রীর কাছে বিনীতভাবে বলছি, তারপর আমি যে বই লিখব, সেটা বেস্ট সেলার হবে। এমন লিখব যে মদন মিত্রর বই আমেরিকাতেও পড়বে”।

কিন্তু কী বই লিখবেন তিনি? মদন জানান, তিনি সারদা মামলায় ২৩ মাস জেলে ছিলেন। সেই ২৩ মাসের কাহিনী তিনি তুলে ধরবেন তাঁর বইয়ে। আর তা বিক্রি হবে হইহই করে।

এসএসকেএমের ডিরেক্টর মণিময় বন্দ্যোপাধ্যায় মদনকে ‘হুলিগান’ বলে দেগেছেন। হাসপাতাল চত্বরে কোনও গুণ্ডামি বরদাস্ত নয় বলে জানিয়েছেন তিনি। সেই মন্তব্যের প্রেক্ষিতে মদন বলেন, “আমি গুন্ডামি করেছি, প্রমাণ করে দেখাক তো। আমি একজন রোগীকে ভরতি করাতে নিয়ে গিয়েছি। অনুরোধ করেছি ডাক্তারদের যে তাঁর দ্রুত চিকিৎসা করা হোক। একে গুন্ডামি বলা যায়”?

আসলে গতকাল, শুক্রবার রাতে পথ দুর্ঘটনায় জখম এক ব্যক্তিকে তাঁর পরিবারের লোক এসএসকেএমে নিয়ে যান। কিন্তু অভিযোগ, চিকিৎসা না করে ৬ ঘণ্টা ফেলে রাখা হয় ওই দুর্ঘটনাগ্রস্তকে। খবর পেয়ে রাতে এসএসকেএম হাসপাতালে পৌঁছন মদন মিত্র। ওই জখম ব্যক্তি আবার অন্য একটি সরকারি হাসপাতালের স্বাস্থ্য টেকনিশিয়ান।

ট্রমা কেয়ার তৈরি হয়েছে জনগণের জন্য। কোনও দাদা, বাবা বা অন্য কারও নয়। চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য আমাকে বলেন, আমায় তো বলছো, কিন্তু কাউকে তো পাব না। পাব না মানে! ট্রমা কেয়ার তো এটা! ২৪ ঘণ্টা পরিষেবা দেওয়ার কথা। ডিরেক্টর এবং এমও কেউ ফোন ধরেন না। স্বাস্থ্যমন্ত্রীও জানান, কাউকে ধরা যাবে না, রাত হয়ে গিয়েছে। আমি মদন মিত্র। এটা সিপিএমের আমল হলে এক মিনিট লাগত ভর্তি করতে”।

মদনের এহেন মন্তব্যে তৃণমূল মুখপাত্র কুণাল ঘোষ পাল্টা বলেন, “মদনদার একটা কথা ধরে ওভাবে আলোচনা করা ঠিক হবে না। তিনি বাম আমল থেকেই পিজি হাসপাতালে প্রভাবশালী। দলমত নির্বিশেষে মানুষের চিকিৎসার বন্দোবস্ত করে এসেছেন। কোনও একটি ঘটনায় হয়তো তাঁর রাগ হয়েছে। আবার হাসপাতাল যেটা বলেছে সেটাও একটা দিক। স্বাস্থ্যকর্মীদের নিরাপত্তার বিষয় রয়েছে। কিন্তু এটাও যেন না হয়, মদনদাকে কাঠগড়ায় তুলতে গিয়ে হাসপাতাল আরও বড় জায়গায় ভুল তথ্য দেবেন”।

Back to top button
%d bloggers like this: