বর্তমানে বীরভূমে নেই সেখানকার দোর্দণ্ডপ্রতাপ নেতা অনুব্রত মণ্ডল (Anubrata Mandal)। গরু পাচার মামলায় (cattle smuggling case) তাঁকে দিল্লি নিয়ে গিয়েছে ইডি। অনুব্রতর অভাব পূরণ করতে চান তৃণমূলেরই এক বিধায়ক। তাঁর কথায়, অনুব্রতকে তিহাড়ে নিয়ে গিয়ে বীরভূমের (Birbhum) মাটিতে চিড় ধরানো যাবে না। দরকার পড়লে তিনি নিজে ভোট করাবেন, এমনটাই জানালেন কামারহাটির তৃণমূল বিধায়ক মদন মিত্র (Madan Mitra)।
মদনের কথায়, অনুব্রতকে তিহাড়ে নিয়ে গিয়ে বীরভূমের সংগঠনকে ক্ষতিগ্রস্ত করা যাবে না। তিনি বলেন, “একটা অনুব্রতকে নিয়ে গেলে হাজার হাজার অনুব্রত, আমরা সবাই রয়েছি। কারণ খেলা হবে অনুব্রতর চষা ময়দানে নয়, খেলা হবে নেতাইতে, খেলা হবে নন্দীগ্রামে। খেলা হবে বীরভূমে। সেই লাঙল চষা চাষির নাম মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়। বিজেপি যত পারেন আরও ধরুন। যত ধরবেন তত আমরা জিতব। যত মারবেন তত আমরা মজবুত হব। তৃণমূল ইজ ইউনাইটেড”।
কামারহাটির বিধায়ক মোগল-রোম সাম্রাজ্যের উদাহরণ টেনে বলেন যে মোগল সাম্রাজ্য যেমন একদিনে ভেঙে যায়নি আবার রোম সাম্রাজ্যও একদিনে তৈরি হয়নি। অর্থাৎ তিনি এটাই বোঝাতে চাইলেন যে অনুব্রতকে বীরভূম থেকে নিয়ে গেলেও তাঁর তৈরি সাম্রাজ্য ভেঙে পড়বে না। মদন বলেন, “একটা অনুব্রত মণ্ডল গেছে। কিন্তু হাজারটা মদন মিত্র, দেবাংশু তৈরি রয়েছে। আমাকে দিন না, আমি একমাস বীরভূমে থেকে ভোট করাতে রাজি আছি। অনুব্রতর হাতে তৈরি মাটি। সেই মাটি কিন্তু বদলায়নি। রাঙা মাটি যেমন শক্ত ছিল তেমনই আছে। সেটা ভোটের দিন বোঝা যাবে। আমি বীরভূমের দায়িত্ব নিতে রাজি। অনুব্রতর তৈরি একটি গড় তিহাড় বদলাতে পারবে না”।
তাঁর সংযোজন, “অনুব্রত মণ্ডল জেলে আর আমি ফুলে এটার মধ্যে তারতম্য করে লাভ নেই। অনুব্রত যে নৌকায় আমরাও সেই নৌকায়। সেই নৌকো ফুটো হবে না। সাগরদিঘিতে দোষটা অভিষেকের হলে তার গুণটাও দেখতে হবে। অনুব্রতহীন বীরভূম এমনটা নয়। বিজেপিকে যদি ভেবে থাকে ফাঁকা করে দেব লিডারদের। তবে বলছি আমরা রক্তবীজের বংশধর”।
এখনও পর্যন্ত বীরভূমের নতুন কোনও সভাপতির নাম ঘোষণা করে নি তৃণমূল। কোর কমিটি গঠন করেই কাজ চলছে সেখানে। মদনের কথায়, “দল যদি চায় আমি গিয়ে ভোট করাতে রাজি আছি। দরকারে এক মাস গিয়ে পড়ে থেকে ভোট করাব। আমি নিজে থেকে সেটা জানিয়ে রাখছি”। এবার এটাই দেখার দল মদনকে আদতে বীরভূমে কোনও দায়িত্ব দেয় কী না।





