শ্রাবন্তী চট্টোপাধ্যায়, টলিপাড়ার অত্যন্ত জনপ্রিয় একজন অভিনেত্রী। তবে অভিনয়ের পাশাপাশি গত বছর তাঁকে অন্য এক ভূমিকাতেও দেখা যায়। ২০২১ সালের ১লা মার্চ বিজেপিতে যোগ দেন অভিনেত্রী। এরপর বিজেপির টিকিটে একুশের বিধানসভা নির্বাচনে বেহালা পশ্চিম থেকে ভোটে লড়েওছিলেন তিনি।
তবে সেই কেন্দ্রে তৃণমূলের হেভিওয়েট নেতা পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের কাছে ভোটে হেরে যান শ্রাবন্তী। এরপরই যেন তাঁর মোহভঙ্গ হয়। গত বছর নভেম্বরে বিজেপি সঙ্গ ত্যাগ করেন তিনি। এরপরই তাঁর রাজনৈতিক কেরিয়ার নিয়ে বেশ ধোঁয়াশা তৈরি হয়।
এই ধোঁয়াশার মধ্যেই এবার কিছু ইঙ্গিত মিলল কী? কারণ এরপর থেকেই অভিনেত্রীকে শাসকদলের জনসভায় দেখা গিয়েছে। এমনকি, পুরভোটের সময় একাধিক সিটে শাসকদলের হয়ে প্রচারেও দেখা যায় শ্রাবন্তীকে। এরপরই জল্পনা শুরু হয় যে শ্রাবন্তী কী এবার তাহলে জোড়াফুলে যোগ দিচ্ছেন?
আর এই জল্পনাই আরও বেশি জোরালো হল যখন গত বৃহস্পতিবার শ্রাবন্তীর বাড়ির পুজোয় উপস্থিত হলেন কামারহাটির তৃণমূল বিধায়ক মদন মিত্র। এর পাশাপাশি এদিন উপস্থিত ছিলেন অভিনেত্রীর জনৈক বন্ধুও যারা বহুতলে একে অপরের পড়শি। তাদের একাধিকবার একাধিক জায়গায় একসঙ্গে দেখা গিয়েছে এর আগেও। কিন্তু শ্রাবন্তীর বাড়ির পুজোয় শাসকদলের বিধায়ক কেন? নিমন্ত্রণ রক্ষার্থে শুধুই কী সৌজন্য? নাকি অন্য কিছু?

এই বিষয়ে খুব বেশি কিছু জানা না গেলেও, বিশেষ সূত্র থেকে এইটুকু জানা গিয়েছে যে গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যেয় মদন মিত্রের কাছে নাকি একটি ফোন আসে। আর এরপরই তাঁকে দেখা যায় শ্রাবন্তীর বাড়িতে। এদিন মদন মিত্র ও নিজের সেই স্পেশ্যাল বন্ধুর সঙ্গে পুজোবাড়িতে একাধিক ছবিও তুলেছেন শ্রাবন্তী।

তবে এই প্রথম যে মদন মিত্রের সঙ্গে শ্রাবন্তীকে দেখা গেল, তা নয়। এর আগে বিজেপিতে থাকাকালীনই মদন মিত্রের সঙ্গে গঙ্গাবক্ষে নৌকার উপর দোল খেলতে দেখা গিয়েছিল শ্রাবন্তী ও আরও অন্যান্য বিজেপির তারকা নেত্রীকে। সেই নিয়ে বিতর্কও হয় প্রচুর।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতি রীতিমতো তোলপাড় হয়েছিল বলা যেতে পারে। এই বিষয় নিয়ে বিজেপি নেতা তথাগত রায় বেশ কটাক্ষও করেছিলেন। আবার গত বছর বিশ্বকর্মা পুজোর দিনও শ্রাবন্তীর সেই বিশেষ বন্ধুর বাড়িতে উপস্থিত ছিলেন অভিনেত্রী নিজে। সেখানে উপস্থিত ছিলেন মদন মিত্রও। সেবারেও অভিনেত্রীর ছবিতে দেখা মিলেছিল কামারহাটির বিধায়কের।





