কুর্ণিশ! টোটো চালিয়েই চলছে সংসার ও পড়াশোনাও, অসুস্থ বাবার পাশে দাঁড়াতে ছোটো বয়সেই সংসারে ভার কাঁধে তুলে নিয়েছে মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী

পরনে স্কুল ইউনিফর্ম, মাথায় বেনি বাঁধা। কিন্তু টোটোর পিছনের সিটে না বসে চালকের সিটে কেন? তা দেখে প্রশ্ন জাগতেই পারে। বাবা-মাকে টোটোর পিছনের সিটে বসিয়ে নিজেই টোটো চালিয়ে পরীক্ষাকেন্দ্রে যাচ্ছে মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী। ছোটো বয়সেই সংসারের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়েছে সে।

কোলাঘাট গার্লস হাইস্কুলের ছাত্রী দেবশ্রী খাঁড়া। বাড়িতে রয়েচেহ তার অসুস্থ বাবা। সংসার চালানোর জন্য তাই টোটো চালিয়েই দিন কাটছে তার। তবে এত অভাব-অনটনের মাঝেও পড়াশোনাটা বিসর্জন দেয়নি দেবশ্রী। এই বছরের মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী সে। টোটো চালিয়েই যাতায়াত করছে পরীক্ষাকেন্দ্রে।

পূর্ব মেদিনীপুরে কোলাঘাটের কেটিপিপি হাইস্কুলে মাধ্যমিক পরীক্ষাকেন্দ্রে সিট পড়েছে কোলাঘাট গার্লস হাইস্কুলের ছাত্রী দেবশ্রীর। কোলাঘাটের কোলা গ্রামে দেবশ্রীর বাড়ি। সেখান থেকেই জাতীয় সড়কের ওপর দিয়ে টোটো চালিয়ে সোজা পরীক্ষা কেন্দ্রে যায় সে।

দেবশ্রীকে পরীক্ষাকেন্দ্রে দিতে যান তার মা ও বাবা। বাবা সনাতন খাঁড়া প্রতি পরীক্ষায় মেয়ের সঙ্গে আসতে না পারলেও মেয়ের সঙ্গে প্রতিদিনই যান মা। দেবশ্রী জানায়, পরীক্ষা দিতে যাওয়ার সময় যাত্রী তোলে না সে, কারণ সময়ে পৌঁছনোর তাড়া থাকে। তবে ফেরার সময় যাত্রী পেলে টোটোতে তুলে নেয়।

জানা গিয়েছে, কিছু বছর আগে টোটো চালাতে গিয়েই পায়ে চোট পান দেবশ্রীর বাবা সনাতনবাবু। পায়ে প্লেট বসানো রয়েছে তাঁর। দুর্ঘটনার পর থেকে খুব একটা টোটো চালাতে পারেন না তিনি। সেই কারণে পড়াশোনার ফাঁকেই টোটো নিয়ে বেরিয়ে পড়ে দেবশ্রী। বাবার পাশে দাঁড়ানোর জন্য এই দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়েছে সে।

সনাতনবাবু জানান, “আমি অন্য একটা জায়গায় ছোটোখাটো কাজ করি। অভাবের সংসারে বসে থাকা সম্ভব নয়। সব পরীক্ষায় আসতে পারিনা। আজ কাজ নেই তাই এসেছি। মেয়ে আমাকে টোটো চালাতে দেয়নি। আমাকে ও ওর মাকে টোটোতে বসিয়ে নিজে চালিয়ে এসেছে”।

দেবশ্রী জানায়, সে দিনে টোটো চালায় আর রাতে পড়াশোনা করে। এভাবেই দু’দিকই বজায় রাখছে সে। তাঁর এই কঠোর পরিশ্রমকে সাধুবাদ জানিয়েছেন তাঁর আত্মীয়স্বজন ও স্কুলের শিক্ষিকারা।

ভবিষ্যতেও টোটো চালিয়েই পড়াশোনা চালিয়ে যেতে চায় দেবশ্রী। তার কথায়, “বাবার কাছে শিখেছি, চাইলে সবই সম্ভব। আর চাকরি করলে বাঁধা ধরা সময় থাকে, চাকরি পেতে টাকাও লাগে। এই কাজটা আমি আমার মতো করে করতে পারব”।

RELATED Articles