পুরভোটে তৃণমূলের প্রার্থী তালিকা নিয়ে জট যেন কাটতেই চাইছে না। গত শুক্রবার তৃণমূলে তরফে পুরসভা নির্বাচনের জন্য প্রার্থী তালিকা পএকাশ করেন দলের মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায়। কিন্তু সেই সময় দেখা যায় তৃণমূলের অফিশিয়াল পেজে প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করাই রয়েছে। সেই তালিকা নিয়ে ব্যাপক বিক্ষোভ দেখা যায় জেলার নানান জায়গায়।
পরিবর্তীতে সে তালিকা বতিল করে পার্থ চট্টোপাধ্যায় ও সুব্রত বক্সির স্বাক্ষর করা তালিকা প্রকাশ করা হয় ও বলা হয় যে সেটিই চূড়ান্ত তালিকা। তবে দেখা যায়, তৃণমূলের অফিশিয়াল পেজে যে তালিকা প্রকাশ করা হয়েছিল ও পার্থবাবু যে তালিকা প্রকাশ করেছেন, দুই তালিকার মধ্যে কিছু রদবদল রয়েছে।
রাজ্যের ১০৭টি পুরসভার প্রার্থী তালিকা নিয়ে তৃণমূলের মধ্যে যে বিক্ষোভের সৃষ্টি হল, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে না দেখিয়েই দলের অফিশিয়াল পেজে যেভাবে একটি প্রার্থী তালিকা তৈরি করা হল ও পরবর্তীতে দলের তরফে সেই তালিকাকে আসল নয় বলে ঘোষণা করতে হল, তাতেন আইপ্যাককেই দায়ী করেছে তৃণমূল। এমনকি, তৃণমূল সুপ্রিমোরও তেমনটাই মত বলে জানা গিয়েছে। তবে আইপ্যাকের তরফে এই দায় ঝেড়ে ফেলে বলা হয় যে পুরভোটের প্রার্থী তালিকার সঙ্গে তাদের কোনও যোগসূত্র নেই।
এই বিবাদ এতটাই গড়িয়েছে যে জানা গিয়েছে প্রশান্ত কিশোর মমতাকে মেসেজ পাঠিয়ে জানান যে তৃণমূলের সঙ্গে বাংলা, মেঘালয় ও ত্রিপুরায় আর কাজ করতে চান না তিনি। এই বার্তাকে কার্যত হুঁশিয়ারি বলেই মনে করেন মমতা। তৎক্ষণাৎ তিনি জবাব দিয়ে দেন, ‘থ্যাঙ্ক ইউ’।
২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের পর আইপ্যাকের কর্ণধার প্রশান্ত কিশোর তৃণমূলের জন্য কাজ করা শুরু করেন। ২০১৯-এ বিজেপির কাছে রাজ্যে ধাক্কা খায় তৃণমূল। এরপর সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরে এ রাজ্যে আসেন পিকে।
তবে এরই মধ্যে দেখা গেল, গোটা রাজ্যে তৃণমূলের পরবর্তী প্রার্থী তালিকাকে মান্যতা দেওয়া হলেও, তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের গড় ডায়মন্ড হারবারে কিন্তু বইছে উলটো স্রোত। সেখানে মান্যতা পাচ্ছে প্রশান্ত কিশোরের সংস্থার তৈরি তালিকা। এ নিয়েও রাজ্য রাজনীতিতে বেশ তরজা শুরু হয়েছে।
ডায়মন্ড হারবারে তৃণমূলের প্রথম তালিকা অনুযায়ীই প্রার্থীর প্রচার ও দেওয়াল লিখন চলছে। সেখানকার নেতাদের দাবী, তাদের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বেই তারা তৃণমূলের প্রথম তালিকাকে মান্যতা দিয়ে প্রচার চালাচ্ছেন।
এদিকে এই নিয়ে বিরোধীরা মুখ খোলার সুযোগ পেয়ে গিয়েছেন। বিজেপির সর্বভারতীয় সহ-সভাপতি দিলীপ ঘোষের কথায়, তৃণমূল দু’ভাগে ভাগ হয়ে গিয়েছে। নতুনরা দল চালাতে চাইছে কিন্তু পুরনোরা গদি ছাড়তে নারাজ।
এই নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে যে রাজ্যের বাকি জায়গায় যখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মান্যতা দেওয়া পার্থ-সুব্রতর স্বাক্ষর করা প্রার্থী তালিকাকে মান্যতা দেওয়া হচ্ছে, তাহলে সেখানে দাঁড়িয়ে অভিষেকের গড় ডায়মন্ড হারবারে উলটো স্রোত কেন? আবার এও প্রশ্ন উঠছে, তাহলে কী মমতা-অভিষেকের মধ্যে সত্যিই ভাঙন ধরেছে ও সাম্প্রতিক অতীতের নানান ঘটনার ফলে কী তবে সেই ভাঙন চওড়া হচ্ছে? এও বলা হচ্ছে যে প্রশান্ত কিশোরের সংস্থা আইপ্যাকের সঙ্গে চুক্তি বাতিল করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আদপে অভিষেকের ডানা ছাঁটতে চাইছেন। রাজ্য রাজনীতির অন্দরে চলছে এমনই গুঞ্জন।





