আধার কার্ড নিয়ে রাজ্যে তৈরি হয়েছে বিভ্রান্তি। গত কয়েকদিন দজ্রে রাজ্যের নানান প্রান্ত থেকে উঠে এসেছে আধার কার্ড বাতিল হওয়ার ঘটনা। এমন ঘটনায় বেশ উদ্বিগ্ন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই নিয়ে কেন্দ্রকে তো ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছেনই তিনি, এবার আধার কার্ডের বিকল্প কার্ডের কথাও বললেন মমতা। এর পাশাপাশি এই নিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে চিঠি দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
গত সপ্তাহেই পূর্ব বর্ধমানের জামালপুরের বেশ কিছু বাসিন্দার আধার কার্ড বাতিল হওয়ার খবর আসে। আধার কার্ড নিষ্ক্রিয় হওয়ার চিঠি আসে তাদের কাছে। এমন ঘটনা ঘটেছে নদিয়া, দুর্গাপুর, হুগলিতেও। এই কথা জানার পর গতকাল, রবিবার সিউড়ির সভা থেকেই উদ্বেগ প্রকাশ করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মুখ্যসচিবকে পরামর্শ দেন এই আধার কার্ড বাতিলের অভিযোগ জানানোর জন্য একটি অনলাইন পোর্টাল চালু করার।
কেন্দ্রকে তোপ মমতার
এই আধার কার্ড বাতিলের ঘটনায় কেন্দ্রকে তোপ দাগলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বলেন, “আমি সত্যি দুঃখিত। ভোটের আগে এমন কী ঘটল যে ইচ্ছামতো কার্ড ডিঅ্যাক্টিভেট করে দিচ্ছে। পরিকল্পনা কী? ডিটেনশন ক্যাম্প তৈরি করা? আমার কাছে সবথেকে বেশি চিঠি তফসিলি ফেডারেশন দিয়েছে। রাজ্য সরকার, জেলা প্রশাসন কিছুই জানে না। জমিদারের মতো আচরণ করে এসব করছে। তাহলে কার্ড করার দরকার কী ছিল”?
মমতার সংযোজন, “ষড়যন্ত্র করে রাজ্যের মানুষকে বিপদে ফেলছে কেন্দ্র সরকার। কিন্তু বাংলার মানুষের ক্ষতি করার ক্ষমতা কারও নেই”।
মোদীকে চিঠি মমতার
এই আধার কার্ড ইস্যু নিয়ে এবার প্রধানমন্ত্রী মোদীকে চিঠি লিখলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। চিঠিতে তিনি উল্লেখ করেন, “জানতে পেরেছি দিল্লির UIDAI কোনও ফিল্ড এনকোয়ারি ছাড়া এই নোটিস দিয়েছে। রাজ্যকে না জানিয়েই আধার কার্ড ডিঅ্যাক্টিভেশনের নোটিস পাঠিয়েছে একাধিক বাড়িতে। আগাম না জানিয়ে কীভাবে এটা করা হতে পারে অবাক লাগছে”।
আধারের বিকল্প কার্ডের ঘোষণা মমতার
আধার কার্ড নিয়ে এমন বিতর্কের মাঝেই এবার বিকল্প এক কার্ডের কথা বললেন মুখ্যমন্ত্রী। রাজ্যবাসীকে আশ্বস্ত করে মমতা বলেন, “ভয় পাওয়ার কারণ নেই কারও। আপনাদের অধিকার আমরা সুরক্ষিত রাখব। আধার কার্ড না-ই বা থাকল, অন্য কার্ড দিয়ে দেব। ভোটার কার্ড, রেশন কার্ড আছে। আধার কার্ড দিয়ে সব করতে হলে আমরা এরও বিকল্প কার্ড করে দেব। রাজ্য সরকারের অধিকারে পড়ে রাজ্যের মানুষকে সুবিধা দেওয়া। আঙুলটা সোজা না দেখতে পায়, আঙুলটা একটু বেঁকিয়ে চালাতে হবে। আমরা মানুষের স্বার্থে রেডি। ব্যাঙ্ক বা অন্য কাজে কারও কোনও সমস্যা হবে না। মিলবে সরকারি পরিষেবাও”।





