রাজ্য

‘তৃণমূলকে ভোটে জেতান, নাহলে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার কে দেবে, চাল বাড়িতে পৌঁছে দেবে কে’, প্রকল্পের কথা শুনিয়ে ভোট ‘ভিক্ষা’ চাইলেন মমতা

তৃণমূল নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূলের নবজোয়ার কর্মসূচির আজ শেষ দিন। এদিন দক্ষিণ ২৪ পরগণার কাকদ্বীপে সভা করেন তিনি। এদিনের এই সভাতে তাঁর সঙ্গে একই মঞ্চে দেখা গেল মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেও। আর এই মঞ্চ থেকেই রাজ্যের নানা প্রকল্পের ফিরিস্তি তুলে ধরে ভোট চাইলেন তিনি।

এদিন কাকদ্বীপের এই সভামঞ্চ থেকে পঞ্চায়েত নির্বাচনের জন্য ভোট চাইতে শোনা গেল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। আর এর জন্য কন্যাশ্রী থেকে শুরু করে শিক্ষাশ্রী, লক্ষ্মীর ভাণ্ডার, স্বাস্থ্যসাথী, ঐক্যশ্রী রাজ্যের এমন নানান প্রকল্পের কথা তুলে ধরলেন তিনি। তৃণমূল নেত্রী যেন এদিন ঠারে ঠারে বুঝিয়ে দিলেন, এই সমস্ত প্রকল্পের সুবিধা যদি পেতে হয়, তাহলে তৃণমূলকে পঞ্চায়েত নির্বাচনে জেতাতে হবে।

এদিন মমতা বলেন, “স্বাস্থ্যসাথী কে দেবে পঞ্চায়েতগুলো না জিতলে? রাস্তা কে করবে? চাল বাড়িতে কে পৌঁছে দেবে? আমফান হলে উদ্ধার করে ত্রাণশিবিরে কে নিয়ে আসবে? কন্যাশ্রী-শিক্ষাশ্রী-ঐক্যশ্রীর ছেলে-মেয়েরা কোথায় যাবে? পেনশন হোল্ডাররা কোথায় যাবেন? স্বাস্থ্যসাথী কোথায় যাবে? পঞ্চায়েত তৃণমূল কংগ্রেস জিতলে আমাদের হাত, মানে জোড়াফুলের হাত শক্তিশালী হবে”।

বলে রাখি,  রাজ্যের মহিলাদের স্বনির্ভর করতে সরকারের তরফে উদ্যোগ নেওয়া হয়। প্রতি মাসে রাজ্যের মহিলাদের ৫০০ টাকা করে দেওয়া হয় এই প্রকল্পের আওতায়। আর তফসিলি জাতি ও উপজাতির মহিলাদের জন্য মাসে ১০০০ টাকা করে দেওয়া হয়ে থাকে। এই প্রকল্পের নামই লক্ষ্মীর ভাণ্ডার।

এই প্রকল্পের সুবিধা পেতে অনেক ক্ষেত্রে যে সমস্যার মুখেও পড়তে হয়, তাও এদিন স্বীকার করে নেন মমতা। বলেন, “কিছু কিছু লোক (কাজ) করে না। তাদের জন্য এবার আমরা নতুন সিস্টেম করছি। আমরা নিজেরা নজরদারি করব। আমি নিজেও দেখি”।

পঞ্চায়েত ভোটের মুখে কাকদ্বীপের সভা থেকে মমতা প্রতিশ্রুতি দেন যে যেখানে যা কাজ বাকি আছে, সেগুলিও আগামীদিনে করে দেওয়া হবে। তিনি বলেন, ‘যেটুকু বাকি আছে, আমার উপর ছেড়ে দিন। আমি করে দেব। যদি কেউ কোথাও কিছু না পেয়ে থাকেন, তাঁরা আমাকে সরাসরি জানাবেন। আমি নিজে প্রতি সপ্তাহে দেখে নিই, কার কী প্রয়োজন আছে”।

Back to top button
%d bloggers like this: