“মহামারী ছড়াচ্ছে একটি দল”, নাম না করেই পরোক্ষভাবে বিজেপিকে খোঁচা মুখ্যমন্ত্রীর

আজ, বৃহস্পতিবার একটি সাংবাদিক বৈঠকে করোনা কালে রাজ্যে কালীপুজো নিয়ে আলোচনায় বসেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি জানান, করোনার সবরকম সুরক্ষা বিধি মেনেই কালীপুজো পালন করা হবে রাজ্যে। তার বক্তব্য, দুর্গাপুজোর মতো কালীপুজোও হবে সব নিয়ম বিধি মেনেই। দুর্গাপুজোর সময় সাধারণ মানুষ সব বিধিনিষেধ মেনে চলেছেন, যার ফলে উৎসবের পরেও করোনা সংক্রমণ মাত্রা ছাড়ায়নি। এরপরই সরাসরি নাম না নিয়েই বিজেপিকে তীর বেঁধেন মুখ্যমন্ত্রী।

সমস্ত সুরক্ষাবিধি মেনে সুন্দরভাবে দুর্গাপুজো পরিচালনা করার জন্য বিভিন্ন ক্লাবের সদস্য ও প্রশাসনকে সাধুবাদ জানান মুখ্যমন্ত্রী। এরপরই পরোক্ষভাবেই বিজেপিকে আক্রমণ শানান তিনি। বলেন, “মহামারী ছড়াচ্ছে একটি বিশেষ দল। দুর্গাপুজোতে শোভাযাত্রা করে, অনুমতি ছাড়াই মিছিল বের সংক্রমণ ছড়ানো হচ্ছে। দু-একটি রাজনৈতিক দল আইন ভাঙছে।“

এর পাশাপাশি কেন্দ্রকেও তোপ দাগেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তার মতে, রাজ্য কেন্দ্র সরকারের ক্ষমতায় হস্তক্ষেপ না করলেও, কেন্দ্র ঠিকই রাজ্য সরকারের কাজে হস্তক্ষেপ করছে। আবার তিনি এও বলেন যে, করোনা পরিস্থিতি হোক বা আমফান, কোনও ক্ষেত্রেই কেন্দ্র থেকে সাহায্য পায়নি রাজ্য, এই নিয়েও কেন্দ্রের বিরুদ্ধে সরব হন মুখ্যমন্ত্রী। তবে কেন্দ্রের সাহায্য না পেলেও যে রাজ্যকে তিনি ভালভাবেই সামলেছেন, এও নিজের বক্তব্যে স্পষ্ট করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

অন্যদিকে, কালীপুজো নিয়ে ঘোষণা করার পাশাপাশি রাজ্যে লোকাল ট্রেন ফের চালু করা নিয়েও এদিন আলোচনা করেন মুখ্যমন্ত্রী। করোনার সবরকম সুরক্ষাবিধি মেনেই যে রাজ্যে লোকাল ট্রেন চালু হতে চলেছে, এও সাফ জানিয়ে দেন তিনি।

প্রসঙ্গত, সম্প্রতিই রাজ্যের সঙ্গে রেলের বৈঠকে লোকাল ট্রেন চালু করা নিয়ে বিস্তর আলোচনা হয়। বৈঠকে ঠিক হয় যে ট্রেন প্রতি ৬০০ জন যাত্রী নিয়েই শুরু হতে চলেছে লোকাল ট্রেন। এছাড়াও, ঠিক হয়েছে যে সকালে ও বিকেলে অফিস টাইমে হাওড়া ও শিয়ালদহ শাখা মিলিয়ে মোট ২০০টির বেশী ট্রেন চলবে। প্রত্যেক স্টেশনে স্যানিটাইজেশন ও মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক করা হবে। তাছাড়া, কালীপুজো নিয়েও বেশ কিছু গাইউলাইন দিয়েছে রাজ্য। সরকারের তরফ থেকে রাজ্যবাসীদের বাজি না ফাটানোর আবেদন করা হয়েছে। করোনা কালে বাজির দূষণ এই পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তুলবে।

আরও অন্যান্য খবর