শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি থেকে শুরু করে রেশন দুর্নীতি, গরু পাচার মামলা নানান কাণ্ডে নাম জড়িয়েছে তৃণমূল নেতা-মন্ত্রীদের। এই মুহূর্তে জেলবন্দি শাসক দলের একাধিক নেতা-মন্ত্রী। এই দুর্নীতির ঘটনাকে কেন্দ্র করে শাসক দলকে বারবার কটাক্ষ শানিয়েছে বিরোধী শিবির। এবার দুর্নীতি ইস্যু নিয়ে বিরোধীদের কড়া জবাব দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
কী বলেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়?
আজ, সোমবার কোচবিহারের রাসমেলা মাঠে একটি সভা ছিল তৃণমূলের। সেখান থেকেই এদিন নিজের কাজের খতিয়ান তুলে ধরে বিজেপিকে নিশানা করে মমতার তোপ, “আগেরবারে যেই বিজেপির সাংসদ এখান থেকে জিতেছে, কী করেছে? আমি এয়ারপোর্ট করলাম। আর বাবু প্লেনে চড়ে এসে বলছে আমি করেছি। জমিদার বাবু? নিজের সাফল্যের খতিয়ান তুলে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আমি রেল মন্ত্রী থাকাকালীন কোচবিহারের নতুন রেল স্টেশন কে করেছিল? যোগীগোপা ময়নাগুড়ি ভায়া কোচবিহারে লাইন কে করেছিল? তারপর চাংড়াবান্ধা, মালবাজার, জলপাইগুড়ি স্টেশন করেছিল? এরা তো একটা ঘাস পুঁতেও দেখায়নি। ঘাস কীভাবে পুঁততে হয়! জল প্রকল্পে ঘর ঘর জল পৌঁছে দিয়েছি। আমি বলি, কত টাকা দিয়েছেন? ২৫ শতাংশ দিয়েছে। বাকি ৭৫ শতাংশ আমরা দিয়েছি। তাহলে কী দাঁড়ালো? দিল টা কে”?
মমতার কথায়, দলের এত লোকের মধ্যে কেউ যদি দুর্নীতি করে থাকে, তাহলে সেই দায় সরকার নেবে না। তিনি বলেন, “আমাদের হাতের পাঁচটা আঙুলের কোনটা ছোট আবার কোনটা বড়। একশোভাগ লোকের মধ্যে একভাগ যদি খারাপ কাজ করে তার দায় দল কিংবা সরকার নেবে না। তাই বলে আমি রাস্তা দিয়ে যাচ্ছি বলছে চোর। এত বড় সাহস? ডাকাতের ডাকাত”।
এরপরই ক্ষোভ প্রকাশ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “ভারতবর্ষ, বাংলাকে লুট করেছে। গরিব মানুষকে লুট করেছে। আমি কারও থেকে এক পয়সার চা খাই না। সার্কিট হাউসে থাকলে আমার ভাড়াটা দিয়ে দিই। বেতন নিই না। লজ্জা করে না। মিথ্যা কথা বলার জন্য একদিন জিভ খসে পড়বে”।
এদিনের এই সরকারি অনুষ্ঠানের মঞ্চ থেকেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘোষণা করেন যে এবার থেকে সরকারি স্কুলে পড়ানো হবে রাজবংশী ভাষা। রাজবংশী স্কুলগুলিকে সরকারি স্বীকৃতি দেন এদিন মমতা। জানা গিয়েছে, রাজ্যের মোট ১৯২টি স্কুলে পড়ানো হবে রাজবংশী ভাষা। এর মধ্যে কোচবিহারের প্রায় ১২০টি স্কুল রয়েছে। জলপাইগুড়ি ও আলিপুরদুয়ার জেলায় রয়েছে বাকি ৭২টি স্কুল।





