স্কুলের সামনে হাতে প্ল্যাকার্ড নিয়ে বসে রয়েছেন অভিভাবকরা। তাতে স্কুলের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে নানান অভিযোগ লেখা। প্রধান শিক্ষককে পদ থেকে সরানোর দাবীও তোলা হয়েছে তাতে। এমনই এক দৃশ্য দেখা গেল রাজ্যের এক স্কুলের সামনে। যা নিয়ে গোটা এলাকায় আপাতত হইচই পড়ে গিয়েছে।
কোথায় ঘটল এমন ঘটনা?
এমন ঘটনা ঘটতে দেখা গেল পশ্চিম মেদিনীপুরের পিংলা ব্লকের একটি স্কুলে। স্কুলে ম্যানেজমেন্টের কোনও গুরুত্ব নেই। ইচ্ছা মতো টাকা খরচ করেন প্রধান শিক্ষক, এমনটাই অভিযোগ। এই অভিযোগ শুধুমাত্র অভিভাবকরাই নন, এমন অভিযোগ করলেন স্কুলের বাকি শিক্ষকরাও। যদিও প্রধান শিক্ষক সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
কী অভিযোগ উঠেছে?
অভিভাবকদের অভিযোগ, এই স্কুলের প্রধান শিক্ষক ২০১৩ সাল থেকে দুর্নীতি করে আসছেন। এই বিষয়ে ২৬ট জায়গায় অভিযোগ জানিয়েও কোনও লাভ হয়নি বলে দাবী। প্রধান শিক্ষক যথাযথ ভাষা ব্যবহার করেন না বলে দাবী বাকি শিক্ষকদের। শিক্ষক-শিক্ষিকাদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করেন তিনি।
শুধু তাই-ই নয়, সরকারি টাকা নয়ছয় করারও অভিযোগ উঠেছে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে। স্কুলের শিক্ষকরাই জানাচ্ছেন, আগের থেকে তৈরি হওয়া বাথরুম দেখিয়ে নতুন করে গ্র্যান্ডের টাকা নিয়েছেন প্রধান শিক্ষক আর সেই টাকা নিজে আত্মসাৎ করেছেন তিনি। এমনকি, স্কুলে ৫০০ থেকে ৬০০ জনের নামে মিড ডে মিলের টাকা আসে, কিন্তু মিড ডে খাচ্ছে মাত্র ৫০-৬০ জন।
কী জানাচ্ছেন স্কুলের বাকি শিক্ষক?
অভিভাবকদের অভিযোগ, দুর্নীতির চরম সীমায় পৌঁছে গিয়েছেন প্রধান শিক্ষক। সেই কারণেই এবার তারা প্রতিবাদ জানিয়ে বিক্ষোভ দেখালেন স্কুলের সামনে। ওই প্রধান শিক্ষকের অপসারণের দাবী তোলেন তারা। ওই স্কুলের এডুকেশন বিভাগের এক শিক্ষক লক্ষ্মীকান্ত বেরা বলেন, “অভিভাবকরা যে দাবী নিয়ে বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন, তা একেবারে সঠিক”।
কী দাবী অভিযুক্ত শিক্ষকের?
এদিকে এই ঘটনায় অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষকের দাবী, “কয়েক বছর ধরে এভাবে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে”। তাঁর কথায়, কয়েকজন নাকি অবৈধভাবে স্কুলের জমি বিক্রি করে দিচ্ছেন। সেই ইস্যু নিয়ে তিনি আদালতে গিয়েছেন। অভিযুক্ত শিক্ষকের দাবী, সেই কারণেই তাঁর দিকে এমন অভিযোগ ছুঁড়ে দেওয়া হচ্ছে।






