গতকালই হেলায় হারিয়েছেন শাহ্-মোদীকে। দেশের একমাত্র মহিলা মুখ্যমন্ত্রীর ক্ষমতা যে কতটা তা দেখিয়েছেন পুরুষশাসিত বিজেপিকে। বাংলার মানুষ যে নিজের মেয়েকেই চায় তা প্রমাণ করেছে বঙ্গবাসীও। বিজেপি নয় প্রথম পছন্দ তৃণমূল। তাই দু’শোর বেশি আসন সংখ্যা নিয়ে রাজ্যে তৃতীয়বারের মতো সরকার গড়তে চলেছে সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস।
তবে আশ্চর্যজনক বিষয়। যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই তৃণমূলের মুখ সেই মুখই এবার হেরে গেছে নন্দীগ্রাম কেন্দ্রে। বিপক্ষে ছিলেন একদা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সবচেয়ে বিশ্বস্ত সৈনিক শুভেন্দু অধিকারী। যদিও কালকে ভোট গণনার পর প্রথম ঘোষণা অনুযায়ী ১২০০০ ভোটে শুভেন্দুকে হারিয়ে দেন মমতা। কিন্তু তারপর তিন ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই হঠাৎ করে নির্বাচন কমিশন জানায় মমতা নয় নন্দীগ্রাম কেন্দ্রে জিতেছে শুভেন্দু। হেরে গেছেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী।
আরও পড়ুন- বিয়েবাড়িতে অভিযান চালিয়ে সমালোচনার মুখে পড়েন, শেষে নিজের পদ ছাড়লেন ত্রিপুরার সেই জেলাশাসক
গতকাল নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর আজ সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন তৃণমূল সুপ্রিমো। সেখানেই জানান আজই বৈঠক করে শপথগ্রহণ ও মন্ত্রিসভা গঠন নিয়ে সিদ্ধান্ত নেবে দল।
জানান বিকেল ৪টেয় এই বৈঠক শুরু হবে।
তবে এদিনের সাংবাদিক বৈঠকে একটি চাঞ্চল্যকর এসএমএস পড়ে শোনান মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘একজনের কাছ থেকে এসএমএস পেয়েছি। ওই রিটার্নিং অফিসার জানান, তিনি যদি পুনর্গণনার নির্দেশ দেন, তাহলে প্রাণ সংশয় হতে পারে। ‘
এরপর তিনি কার্যত বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, ‘নন্দীগ্রামে মেশিন পাল্টে দেওয়া হয়েছে, আরও অনেক কিছু করেছে।’ এরপর তিনি আদালতে যাবেন । মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ওই নির্দিষ্ট ইভিএম মেশিন যেন বিকৃত করা না হয়। তিনি বলেন, ‘নন্দীগ্রামে কীরকম ভোটগ্রহণ হচ্ছিল সবাই দেখেছে। দুজন পক্ষপাতদুষ্ট পর্যবেক্ষক সেখানে ছিল। তবে মানুষ গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে, আদালতের ওপর ভরসা আছে।’
একইসঙ্গে তার অভিযোগ , ‘কী করে ৮ হাজারের উপর এগিয়ে থাকার মার্জিন এক নিমেষে শূন্য হয়ে যায় ? সার্ভার ডাউন করে রাখা হয়েছিল। না হলে সারা বাংলার এমন ফলাফল, আর নন্দীগ্রামে আলাদা ফল কীভাবে হয় ? ‘
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, বঙ্গ রাজনীতিতে নন্দীগ্রাম বিগত বেশ কয়েক বছরে সবচেয়ে আলোচিত কেন্দ্র। নন্দীগ্রাম মুভমেন্ট দিয়েই বঙ্গ রাজনীতিকে উঠে এসেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ২০২১ নির্বাচনেও আলোচনার কেন্দ্রে ছিল নন্দীগ্রাম। ভোট-পরবর্তী আলোচনার কেন্দ্রেও রয়ে গেল সেই নন্দীগ্রামই।





