বুধবার রাজ্যের উপর দিয়ে বয়ে গেছে ঘূর্ণিঝড় যশ। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বাংলা ও ওড়িশার উপকূলবর্তী এলাকা। যাত্রাপথে যা পেয়েছে সব নিঃশেষ করে দিয়ে গেছে। রাজ্যের একাধিক জায়গা বানভাসি। সেই সঙ্গে গভীর নিম্নচাপে পরিণত হওয়া যশের ধাক্কায় রাজ্যজুড়ে ব্যাপক পরিমাণ বৃষ্টি হওয়ায় অবস্থা আরও বিগড়েছে।
এই অবস্থায় আজ এই ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে হওয়া ক্ষয়ক্ষতি পর্যালোচনা করতে রাজ্যে আসছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। প্রথমে যাবেন ওড়িশা। সেখানকার ক্ষয়ক্ষতি দেখে তারপর আসবেন পশ্চিমবঙ্গের পূর্ব মেদিনীপুরে। সেখানেই কুলাইকুণ্ডায় মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে বসার কথা রয়েছে তাঁর। এই বৈঠকে উপস্থিত হবেন বলে ইতিমধ্যেই জানিয়ে দিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর এবার এখানেই টুইস্ট! গতকাল অর্থাৎ বৃহস্পতিবার বিকেল পর্যন্ত বৈঠকের কর্মসূচি ঠিক থাকলেও; রাতে বিষয়টি নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়।
জানা যায় বিধানসভা নির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হারানোর পর বাংলার প্রধান বিরোধী দলনেতা হিসাবে; প্রধানমন্ত্রীর আমন্ত্রন পেয়েছেন নন্দীগ্রামের বিধায়ক শুভেন্দু অধিকারী l
আরও পড়ুন-যশের ধাক্কায় ক্ষতিগ্রস্তদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে সরাসরি কেন্দ্রীয় টাকা পাঠানোর দাবি দিলীপ ঘোষের
আর ঠিক এইখানেই আপত্তি তুলেছে রাজ্য তৃণমূল নেতৃত্ব। গতকালই নবান্নের তরফে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে জানিয়ে দেওয়া হয়; একদা তৃণমূল নেতা এবং অধুনা রাজ্যের বিরোধী নেতা শুভেন্দু অধিকারী উপস্থিত থাকলে সেই বৈঠকে উপস্থিত থাকবেন না বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
গতকালই প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের তরফে জানানো হয় আজকের বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী ও মুখ্যমন্ত্রীর পাশাপাশি উপস্থিত থাকবেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান; রাজ্যের কেন্দ্রীয় মন্ত্রী দেবশ্রী চৌধুরী; রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড় এবং বিজেপি বিধায়ক শুভেন্দু অধিকারী। মূলত এই তালিকা জানার পরেই বেঁকে বসেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর স্পষ্ট যুক্তি; কেন্দ্রীয় মন্ত্রীরা এবং বা রাজ্যপাল সরকারি বৈঠকে উপস্থিত থাকতেই পারেন। কিন্তু শুভেন্দু কেনও?! এইখানেই প্রশ্ন তোলে তৃণমূল নেতৃত্ব।
আরও পড়ুন-যশের অভিঘাতে ১৫ হাজার কোটি টাকার ক্ষতি বাংলার! ৩ থেকে ১৮ জুন পর্যন্ত ‘দুয়ারে ত্রাণ’
বাংলার রাজ্য নেতৃত্বের তরফে এদিন উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে মুখ্যসচিব আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়েরও। প্রধানমন্ত্রী-মুখ্যমন্ত্রী বৈঠকে শুভেন্দু’র উপস্থিতি নিয়ে নবান্নের বক্তব্য; সরকারি বলয়ের বাইরে অন্য কোনও রাজনৈতিক উপস্থিতি না থাকাই বাঞ্ছনীয়। এবং এই বৈঠক সরকারি থাকাই শ্রেয়, শুভেন্দুকে ডেকে এনে এই বৈঠককে রাজনৈতিক না করাই উচিত কেন্দ্রের! মমতার এই দাবি মেনে নেন কিনা মোদী!





