এ কী কথা! নাড্ডার কনভয়ের হামলাকে ‘নৌটঙ্কি’ বলে দাগলেন মমতা, সবই লোক দেখানো, দাবী মুখ্যমন্ত্রীর

ডায়মন্ড হারবারে যাওয়ার পথে বিজেপি সর্বভারতীয় নেতা জে পি নাড্ডার কনভয়ে হামলা চালায় দুষ্কৃতীরা। গাড়ি লক্ষ্য করে ছোঁড়া হয় ইট, বোতল। সংবাদমাধ্যমের ক্যামেরায় ধরাও পড়েছে যে তৃণমূলের পতাকা নিয়ে বিক্ষোভ দেখিয়েছে দুষ্কৃতীরা। কিন্তু এই অভিযোগ মানতে নারাজ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এর পরিবর্তে তিনি এই ঘটনাকে ‘নৌটঙ্কি’ বলে দাগলেন। তিনি দাবী করেন যে, জাতীয় স্তরের সংবাদমাধ্যমে প্রচার পেতেই এসমস্ত ‘নাটক’ করা হয়েছে।

এ দিনের ঘটনার প্রসঙ্গে মমতার দাবী, হয়ত ছোটো কোনও ঘটেছে। তিনি জানান, শিরাকোলে একটা প্রোগ্রাম ছিল। তিনি বারণ করায় তাঁর দলের ছেলেরা তা করেনি। শিরাকোলে কিছুই হয়নি বলে দাবী তাঁর। মমতার কথায় সবটাই আগের থেকে পরিকল্পনা করে করা হয়েছে। যেমন ঈশ্বরচন্দ্র মূর্তি ভাঙা সময় করা হয়েছিল। এই ঘটনার তদন্ত করতে বলেছেন তিনি পুলিশকে।

তিনি এও প্রশ্ন তোলেন যে বিক্ষোভে যে ইট পাটকেল ছোঁড়া হচ্ছিল তা কে দেখছিল রাস্তায় দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে? কেউ একটা হয়ত ঢিল মারছে। কে ছবি তুলল ভিডিয়োটা কে তুলল? এই ধরণের একাধিক প্রশ্ন করেন তিনি।

অনেক আগেই বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতাদের ‘বহিরাগত’ বলে দেগেছিলেন শাসকদলের নেত্রী। আজ আবার সেই সুর টেনেই তিনি বলেন যে হঠাৎ করে যে কোনও সময় যে কেউ একটা রাজ্যে চলে আসছে। তিনি দাবী তোলেন শুধু কী বিজেপির দলই সভা করবে, আর কী অন্য কেউ প্রচার করবে না? তাঁর কথায়, “কোনও দিন চাড্ডা, নাড্ডা, গাড্ডা, ফাড্ডা, ভাড্ডা গাড্ডা সব চলে আসছে এক এক করে। ওরা একা অনুষ্ঠান করবে আর কেউ করবে না! আর যেদিন তারা অনুষ্ঠান করবে লোক যদি না আসে নিজে সাজিয়ে রাখবে, যাতে নৌটঙ্কি করে ন্যাশনাল নিউজে দেখায়, দেখো আমায় মেরেছে। আহারে”।

এদিন মমতা আরও বলেন, “তোমার পিছনে ৫০টি গাড়ি কেন যায়? আমার পিছনে ৩টে গাড়ি যায়। গাড়িতে লাল লাইট লাগাইনি। কিন্তু একটা নেতার পিছনে ৫০টি গাড়ি কেন যাবে? ৫০টি গাড়ি গেলে একটা গাড়ি অন্য গাড়িকে ওভারটেক করতে গেলে দুর্ঘটনা হতে পারে। এতে তো জীবনহানির ঝুঁকি থাকে। দলকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারো না। তোমার ৫০টি গাড়ির কনভয়। তার উপরে প্রেসের কনভয় ৩০টা। তার মধ্যে বাইকের কনভয় ৪০টা”।

এদিন বিজেপি নেতাদের নিরাপত্তার প্রসঙ্গে মমতা বলেন, “এলাকার অ্যাংলা, ব্যাংলা, চ্যাংলারও অনেক সম্মান আছে বলে মনে করি। এক একটার খুঁটির জোর নেই। না এপাশ না ওপাশ, ধপাস। সেগুলির পিছনে ৪টে করে নিরাপত্তা ঘুরে বেড়াচ্ছে। সিকিউরিটিগুলো কালো কালো ড্রেস পরে বড় বড় বন্দুক নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে”। তিনি এও বলেন যে বিজেপি নেতাদের সঙ্গে সিআরপিএফ, বিএসএফ ফোর্স থাকা সত্ত্বেও তাদের কনভয়ে কী করে হামলা হতে পারে?

এই হামলার প্রসঙ্গে মমতা আরও দেগে বলেন, গতকালের জে পি নাড্ডার সভায় সেরকম কোনও ভিড় না হওয়ায় আজ বিজেপি নিজেই লোক ঠিক করে পরিকল্পনা করে নিজেদের গাড়িতে হামলা করিয়েছে। এরপর তৃণমূলকে দোষারোপ করছে মানুষের ভোট পাওয়ার জন্য।

RELATED Articles