কেন্দ্রীয় বঞ্চনা নিয়ে তিনি বারবার সরব হয়েছেন। এমনকি তিনি এও অভিযোগ করেছেন যে বঙ্গ বিজেপির নেতারা (Bengal BJP leaders) কেন্দ্রীয় সরকারকে আর্জি জানিয়েছেন যাতে রাজ্যের প্রকল্পে টাকা না দেওয়া হয়। এবার বিধানসভায় দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) বললেন যে রাজ্যের ইস্যু নিয়ে যাতে বিরোধীরা দিল্লিতে বলে। এদিনই আবার তিনি বলেন, “আমায় পলিটিক্যালি গবেট ভাবতেই পারেন”। তাঁর সেই মন্তব্য নিয়েই এখন চর্চা তুঙ্গে।
গতকাল, বৃহস্পতিবার আচমকাই বিধানসভায় যান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই সময় খাদ্য ও সরবরাহ দফতরের মন্ত্রী রথীন ঘোষ বাজেট বক্তৃতা করছিলেন। মন্ত্রীর বক্তৃতা শেষে মুখ্যমন্ত্রীকে কিছু বলার জন্য অনুরোধ করেন অধ্যক্ষ বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আমি রাজভবনে গিয়েছিলেন। ভাবলাম, বিধানসভা চলছে। একবার ঘুরে যাই। সবার সঙ্গে দেখা হয়ে যাবে”।
নিজের এই বক্তৃতার মাঝেই ‘পলিটিক্যালি গবেট’ কথাটি টেনে আনেন মমতা। বলেন, “মিডলম্যানদের থেকে চাষিদের বাঁচাতেই আমরা সরাসরি ধান কিনে নিই চাষিদের থেকে। কৃষকজমির মিউটেশন ফি আমরা মকুব করে দিয়েছি। বিমার জন্য আগে বাংলার কৃষকদের ৭০০ কোটি টাকা দিতে হত। এখন এক টাকাও দিতে হয় না। সবটাই আমরা দিই। ১৮-৬০ বছর বয়সের মধ্যে একজন চাষি মারা গেলে তাঁর পরিবার ২ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ক্ষতিপূরণ পায়। এইরকম অনেক কিছু করা হয়েছে। আমরা মনে করি, আমাদের কৃষকরা ভাল আছে। চাষিদের আয় তিনগুণের বেশি বেড়েছে”।
এদি মমতা এও বলেন যে নানান ঝড়বৃষ্টি-বন্যার কারণে জমির ধান অনেকসময় ডুবে যায়। এর সমাধানও রাজ্য সরকার করে দিয়েছে। মমতার কথায়, “আমাদের গবেষকরা এই সমস্যার সমাধান করেছেন। বুদ্ধিটা আমি দিয়েছিলাম ওদের। প্রতিবার সুন্দরবন, দিঘাতে ধান নষ্ট হচ্ছে। যদিও আমরা ক্ষতিপূরণ দিচ্ছি। কিন্তু ধান তো নষ্ট হচ্ছে। এখন নোনাস্বর্ন ধান বের করা হয়েছে”।
এরপরই বিরোধীদের লক্ষ্য করেই মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “কেউ কেউ পলিটিক্যালি আমায় গবেট ভাবতেই পারে। আমি গবেট, লকেট নই। আমি তাঁদের কাছে গ্রহণযোগ্য নই। গণতন্ত্রে সবাই সবার কাছে গ্রহণযোগ্য হবে তার কোনও মানে নেই। কিন্তু আমার কিছু করার নেই”।
মুখ্যমন্ত্রীর এহেন মন্তব্যের জেরে বেশ চর্চা শুরু হয়েছে। কাদের উদ্দেশ্য করে তিনি এই ‘পলিটিক্যালি গবেট’ কথাটি বললেন, তা নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন। কারণ মমতার রাজনৈতিক জীবনে তাঁর সাফল্য কম নয়। সাংসদ থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী আর এখন পশ্চিমবঙ্গের তিনবারের মুখ্যমন্ত্রী। সুতরাং, রাজনীতিতে তাঁর মাথা যে বেশ পাকা, সেদিকে কোনও সন্দেহ নেই,। কিন্তু তাও কেন এমন কথা তিনি বললেন, তা নিয়ে জলঘোলা তো হচ্ছেই।





