৬৫ বছরেও বিরামহীন! “শরীর ভাল নেই, কাজের চাপ আরও বাড়ছে”, ক্লান্ত দেশের একমাত্র মহিলা মুখ্যমন্ত্রী’র গলা

তিনি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী। দেশের একমাত্র মহিলা মুখ্যমন্ত্রী। তৃণমূলের সর্বাধিনায়িকা। তাঁর নামেই চাঙ্গা হয় তৃণমূল। তাঁর ভাষণেই নতুন ভাবে ঝাঁপাতে বদ্ধপরিকর হয় একটা গোটা রাজনৈতিক দল।

কিন্তু এবার তিনিই ক্লান্ত। দৌড়ঝাঁপ, কাজকর্ম, দলীয় কর্মীদের খোঁজখবর নেওয়া দিনের মধ্যে অধিকাংশ সময়টা তাঁর এভাবেই কাটে, সেই কবে থেকে। বছর ৬৫ পেরলেও অবসর নেই তাঁর। উল্টে কাজ বেড়েছে। যদিও তাঁকে এই রূপেই দেখতে অভ্যস্ত বাাংলার ৮ থেকে ৮০।  কিন্তু ১০ মার্চের পর থেকে তাঁর এই খুব চেনা রূপটা বদলেছে। হুইলচেয়ার এখন তাঁর নিত্যসঙ্গী। হাঁটছেন না, হুইলচেয়ার বসেই চষে বেড়াচ্ছেন রাজ্যের প্রতিটি প্রান্ত। কিন্তু এবার তিনি ক্লান্ত, অবসন্ন। তাই তো দিনভর এত এত জনসভার পর মুখ দিয়ে বেরিয়েই গেছে, “শরীর ভাল নেই। কাজের চাপ আরও বাড়ছে।” এমনই বিষাদমিশ্রিত কিছু শব্দ উচ্চারিত হল রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী, ‘জননেত্রী’ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কণ্ঠে।

আরও পড়ুন-ক্ষমতায় এলে কে হবে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী, জানিয়ে দিলেন অমিত শাহ

প্রসঙ্গত, মঙ্গলবার বিকেলে পুরুলিয়ায় তিনটি জনসভা শেষ করে বিকেলে দুর্গাপুরে ফিরেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁকে হুইলচেয়ারে করে নিয়ে যাচ্ছিলেন নিরাপত্তা রক্ষীরা। স্বভাবতই তাঁকে ঘিরে ছিল কর্মী, সমর্থকদের একটা ছোট ভিড়। প্রত্যাশিতভাবেই সেখানে উঠল ‘খেলা হবে, খেলা হবে’ স্লোগান। তার মাঝেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় হোটেলে ফেরেন। হোটেলে ঢোকার আগে সাংবাদিকরা তাঁর শারীরিক অবস্থার কথা জানতে চাইলে তিনি বললেন, “শরীর ভাল নেই। কাজের চাপ আরও বাড়ছে।” তবে আর কিছু বলার সুযোগ পেলেন না। তার আগেই রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধানকে নিরাপদে হোটেলে ঢুকিয়ে নিতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন নিরাপত্তা রক্ষীরা।

আরও পড়ুন-সোনার বাংলা গড়ার প্রতিশ্রুতি বিজেপির, কৃষক থেকে শুরু করে মৎস্যজীবী, ওবিসিদের জন্য ঢালাও সংকল্প গেরুয়া শিবিরের

প্রসঙ্গত, গত ১০ই মার্চ নন্দীগ্রামে মনোনয়ন পেশ করার পর মন্দির দর্শনে গিয়ে পায়ে চোট পান নন্দীগ্রামের প্রার্থী তথা তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এসএসকেএমে প্রায় দু’দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর সেভাবে বিশ্রাম না নিয়েই ফের ভোটপ্রচারে বেড়িয়েছেন তিনি। বলেইছিলেন, হুইলচেয়ারে বসেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে ঘুরে বেড়াবেন। করছেনও তাই। কিন্তু মনের অদম্য জেদ, ইচ্ছাশক্তিও তো মাঝেমধ্যে ক্লান্তির কাছে হার মানে। এবার তাঁরও হচ্ছে। শরীরে থাবা বসাচ্ছে ক্লান্তি। তাই আপনজনদের ভিড়ের মাঝে তাঁর মুখ থেকে শোনা যাচ্ছে অবসন্নতার কথা।

RELATED Articles