তৃণমূলের অন্দরে বিতর্ক অনেক কষ্ট করেই মিটেছে বলে বলা যায়। নেতাদের মধ্যে সংঘর্ষের জেরে দলকে বেশ অস্বস্তির মুখে পড়তে হয়েছে গত কয়েকদিনে। এই বিতর্কের কারণেই এবার আরামবাগের সাংসদ অপরূপা পোদ্দারকে দলীয় বৈঠকে ধমক দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
উল্লেখ্য, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের মধ্যেকার সংঘর্ষ নিয়ে মুখ খুলেছিলেন অপরূপা। প্রকাশ্যেই শ্রীরামপুরের সাংসদের বিরুদ্ধে মন্তব্য করেন তিনি। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘ব্যক্তিগত মতামত’ ও ‘ডায়মন্ড হারবার মডেল’ নিয়ে বিরোধিতা করেছিলেন কল্যান বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর সেই মন্তব্যের বিরুদ্ধে গর্জে উঠেছিলেন অনেক তৃণমূল নেতাই।
অপরূপা পোদ্দার কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে সংবাদমাধ্যমে কটাক্ষ করে এই বলেছিলেন, “ঘরশত্রু বিভীষণরাই দলের ক্ষতি করে”। তিনি আরও বলেছিলেন, “সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় লোকসভার সাংসদ। তাঁর যদি কোনও মন্তব্য থাকত তবে তা দলের অন্দরে প্রকাশ করা উচিত ছিল। তাঁর পদত্যাগ করা উচিত। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিকল্প তিনি নিজেই। কিন্তু এভাবে যদি ঘরশত্রু বিভীষণ নিয়ে বাস করতে হয় তাহলে দলেরই সমস্যা”। এই নিয়েই মমতা ধমক দেন অপরূপাকে।
গতকাল, বৃহস্পতিবার কালীঘাটে তৃণমূল সাংসদদের নিয়ে বৈঠকে বসেন মমতা। এদিন দলের সাংসদদের পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় ও সুব্রত বক্সিও। বাকি সাংসদরা ভারচুয়ালি অংশ নেন এই বৈঠকে। এই বৈঠকেই কার্যত অপরূপাকে ধমক দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “তোমাকে তো ফোনেই পাওয়া যায় না, আর এদিকে সংবাদমাধ্যমে মুখ খুলছ”।
এর রেশ টেনেই মমতা বৈঠকে সকল সাংসদদের সাফ জানিয়ে দেন, দল সম্পর্কে প্রকাশ্যে কোনও মন্তব্য করা যাবে না। কোনও ক্ষোভ-বিক্ষোভ থাকলে তা দলের অন্দরেই জানাতে হবে। সাংসদরা তাঁদের সমস্যার কথা লোকসভার দলনেতা সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়কে জানাতে পারেবন বলেও এদিন বলেন মুখ্যমন্ত্রী।
সূত্রের খবর অনুযায়ী, সংগঠনের কাজকর্মে খুব একটা সন্তুষ্ট হতে পারছেন না তৃণমূল সুপ্রিমো। এই কারণে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব সামলানোর পাশাপাশি, তিনি সংগঠনের দিকেও নজর দিতে চাইছেন বলে জানা যাচ্ছে। এদিন এই বার্তাই তিনি দেন সাংসদদের।






‘ভগবান শুধু আশা দেন, কাজ কিছুই করেন না!’ ঈশ্বরকে নিয়ে বিস্ফো’রক জাভেদ আখতার